ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিষ খাইয়ে দুই শিশুকে ‘হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী’ গ্রেপ্তার

ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে রংপুরে যাওয়ার জন্য বাসে ওঠার সময় সফিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দুই শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যার ঘটনার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ সফিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ১৮ দিন পর আজ সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। সফিউল্লাহ আশুগঞ্জ উপজেলার মৈশার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলার একটি চাতালকলে কাজ করেন এবং চাতালশ্রমিকদের সরদার। ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে রংপুরে যাওয়ার জন্য বাসের ওঠার সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে আশুগঞ্জ পুলিশ। তাঁকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। আজ রাত ৯টার দিকে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

জানা গেছে, ১০ মার্চ আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের নজরপাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের দুই শিশু ইয়াসিন ও মুরসালিন মারা যায়। দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ১৬ মার্চ তাদের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবা ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে দুই শিশুর মা মোছা. রিমা (২৫) ও সফিউল্লাহকে আসামি করে আশুগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ রিমাকে গ্রেপ্তার করে। প্রেমিককে বিয়ে করে নতুন সংসার করার জন্য দুই ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৭ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে জবানবন্দি দেন রিমা।

ওই জবানবন্দির বরাত দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আনিসুর রহমান ১৭ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১২ বছর আগে পারিবারিকভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে রিমার বিয়ে হয়। তাঁদের দুই ছেলে—ইয়াসিন খান (৭) ও মুরসালিন খান (৪)। ইসমাইল সিলেটের গোলাপগঞ্জের বৈটিঘর এলাকায় ইটভাটার শ্রমিকদের গাড়ির টিকিট বিলির কাজ করেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে রিমা স্থানীয় একটি চাতালকলে কাজ শুরু করেন। সেখানে শ্রমিকদের সরদার সফিউল্লাহর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে এ ক্ষেত্রে রিমার দুই ছেলে ছিল বাধা। তাঁরা দুই শিশুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ১০ মার্চ বিকেল পাঁচটার দিকে সফিউল্লাহ বাড়িতে এসে রিমাকে বিষ মেশানো পাঁচটি মিষ্টি দিয়ে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বর এসেছে বলে শিশুদের দাদিকে দিয়ে স্থানীয় মা ফার্মেসি থেকে নাপা সিরাপ আনতে পাঠান। সে সময় রিমা বড় ছেলে ইয়াছিনকে তিনটি ও ছোট ছেলে মুরসালিনকে দুটি মিষ্টি খাওয়ান। শিশুদের দাদি নাপা সিরাপ নিয়ে বাড়িতে এলে সেখান থেকে আধা চামচ করে দুই সন্তানকে খাওয়ান রিমা। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই শিশুর মুখ দিয়ে লালা বের হয়। পরে তারা বমি শুরু করে। তাদের প্রথমে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বাড়িতে নেওয়ার পথে রাস্তায় রাত ৯টার দিকে মুরসালিন ও রাত ১০টার দিকে ইয়াছিনের মৃত্যু হয়।

রিমার জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্বামী ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে রিমা ভালো ছিলেন না। সফিউল্লাহ যখন তাঁকে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখান, তিনিও এর সঙ্গে একমত হন। পরে নিজেরা পরিকল্পনা করে দুই শিশুকে হত্যা করেন।