বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ২৬ মে রাতে খুন হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের হাবলাউচ্চ গ্রামের বাসিন্দা স্বপন মিয়া। নিহত স্বপনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম গত ৮ জুন মামলা করেন। মামলায় একই ইউনিয়নের বিরামপুর, ঈশাননগর, হাবলাউচ্চ ও শিলাউর গ্রামের ২৭ জনকে আসামি করেন তিনি।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তিনি সুলতানপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইসরাত জাহানের ছেলে। গত ২০ আগস্ট শফিকুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ইউপি সদস্য ইসরাত জাহান সুলতানপুর ইউপির গত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী মহসিন মিয়ার অনুসারী। তাঁকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন শেখ ওমর ফারুক। বিষয়টি নিয়ে ওমর ফারুক ও তাঁর বাবা ফিরোজুর রহমানের সঙ্গে মহসিন মিয়া ও ইসরাত জাহানের বিরোধ চলে আসছে।

রিকশাচালক স্বপন হত্যাকাণ্ড নিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন সুলতানপুর ইউপির সদস্য আবুল খায়ের। ইউনিয়নের শিলাউর গ্রামের এই বাসিন্দা ওই হত্যা মামলার আসামিও। তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সংবাদ সম্মেলনে আবুল খায়ের দাবি করেন, স্বপন হত্যাকাণ্ডে মহসিনের পক্ষের লোকজন জড়িত।

এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন ইউপি সদস্য ইসরাত জাহান ও হত্যা মামলার এক আসামি সাধন চৌধুরীর ভাই মতিলাল চৌধুরী। তাঁরা স্বপন হত্যার জন্য ফিরোজুর ও ওমর ফারুককে দায়ী করেন। ফিরোজুর রহমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হাত করে জোরপূর্বক শফিকুলের স্বীকারোক্তি আদায় করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ইসরাত।

সর্বশেষ আজ সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান। এ সময় তিনি দাবি করেন, ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে একটা পক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। ওই পক্ষই স্বপন হত্যাকাণ্ডে তাঁর ও ছেলে ওমর ফারুকের নাম জড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত।

ফিরোজুর রহমান বলেন, সিআইডি তদন্ত করে ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে। কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে এবং কারা জড়িত, সবকিছুই গ্রেপ্তার হওয়া শফিকুল স্বীকার করেছেন। মূলত ইউপি নির্বাচনে সুবিধা নিতেই ইসরাত জাহানের পক্ষ এসব কুৎসা রটাচ্ছে। আর মতিলাল চৌধুরীর ভাই সাধন চৌধুরী তাঁর (ফিরোজুরের) কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। পরে চার লাখ টাকা ফেরত দিলেও বাকি এক লাখ টাকা এখনো দেননি। এই টাকা চাওয়ায় তিনি প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন