বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ৯ আগস্ট জেলা শহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মনির হোসেন দেড় মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে টিকা দিতে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, কেন্দ্রে টিকা নেই। পরপর কয়েক দিন ওই কেন্দ্রে যাওয়ার পরও সন্তানকে টিকা দিতে পারেননি তিনি। মনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেড় মাস বয়সী শিশুকে হাতে দুটি টিকা এবং পায়ে দুটি টিকা দিতে হয়। প্রথমবার যাওয়ার পর টিকা দিতে পারিনি। তারপর সাত দিন পার হওয়ার পর হাতের টিকা নিতে পেরেছি। কিন্তু পায়ের টিকা এখনো বাকি আছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জনের সঙ্গেও কথা বলেছি। টিকা দ্রুত আসবে বলে তিনি জানান। কিন্তু টিকা এখনো আসেনি।’ তিনি বলেন, ‘আমার মতো অনেক অভিভাবক তাঁদের শিশুদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। একই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন আরও অনেক মা–বাবা।’

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, দু-তিন মাস ধরে জেলায় পেন্টাভ্যালেন্ট ও পিসিভি টিকার সংকট রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

জেলা শহরের আরেক বাসিন্দা আজিজুর রহমান তাঁর দেড় মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে টিকা দিতে ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে যান। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁকেও টিকা নেই বলে জানান। তিনি বলেন, ‘পেন্টাভ্যালেন্ট ও পিসিভি টিকা দুটিই শিশুদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দুই মাস ধরে খোঁজ নিচ্ছি—জেলায় এ দুটি টিকার সংকট চলছে।’

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ইপিআই কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ১ ডোজ বিসিজি টিকা জন্মের পর পর (৬ সপ্তাহের মধ্যে) শিশুর বাঁ বাহুর ওপরের অংশে চামড়ার মধ্যে; ৩ ডোজ পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা ৪ সপ্তাহের বিরতিতে বয়স ৬ সপ্তাহ, ১০ সপ্তাহ, ১৪ সপ্তাহে শিশুর বাঁ ঊরুর, মধ্যভাগের, বহিরাংশে মাংসপেশিতে; ৩ ডোজ পিসিভি টিকা ৪-৮ সপ্তাহের বিরতিতে বয়স ৬ সপ্তাহ, ১০ সপ্তাহ, ১৮ সপ্তাহে শিশুর বাঁ ঊরুর, মধ্যভাগের, বহিরাংশে মাংসপেশিতে; ২ ফোঁটা করে ৩ ডোজ ওপিভি টিকা ৪ সপ্তাহ বিরতিতে বয়স ৬ সপ্তাহ, ১০ সপ্তাহ, ১৪ সপ্তাহে মুখে খাইয়ে; ১ ডোজ আইপিভি টিকা বয়স ১৪ সপ্তাহ পূর্ণ হলে শিশুর ডান ঊরুর, মধ্যভাগের, বহিরাংশে মাংসপেশিতে; ১ ডোজ এমআর টিকা বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে শিশুর ডান ঊরুর, মধ্যভাগের, বহিরাংশে চামড়ার নিচে এবং ১ ডোজ হামের টিকা ১৫ মাস পূর্ণ হলে শিশুর ডান ঊরুর, মধ্যভাগের, বহিরাংশে চামড়ার নিচে প্রয়োগ করতে হয়।

সূত্র জানায়, জেলায় প্রতিবছর গড়ে ৯০ হাজার শিশুকে এই সব প্রকার টিকা দেওয়া হয়। সেই হিসাবে জেলায় প্রতি মাসে সাড়ে সাত হাজার শিশুকে পেন্টাভ্যালেন্ট ও আরও সাড়ে সাত হাজার শিশুকে পিসিভির টিকা দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার স্বাস্থ্যকর্মী সংগঠনের এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, জেলা শহর ও সদর উপজেলায় দুই মাস ধরে পেন্টাভ্যালেন্ট ও পিসিভি টিকার সংকট রয়েছে। আর অন্যান্য উপজেলায় এক থেকে দেড় মাস ধরেই বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় এ দুটি টিকার সংকট চলছে। প্রতিদিনই অভিভাবকেরা শিশুদের নিয়ে টিকাকেন্দ্রে আসেন। কিন্তু টিকা না পেয়ে হতাশা হয়ে তাঁরা ফিরে যান।

তবে জেলা ইপিআইয়ের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল ইসলামের দাবি, দুই মাস ধরে নয়, দুই সপ্তাহ ধরে পেন্টাভ্যালেন্ট ও পিসিভির টিকার সংকট রয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাহিদাপত্র দিয়েছি। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই টিকা দুটির বরাদ্দ আমরা পাব। জেলায় প্রতিবছর গড়ে ৯০ হাজার শিশুকে সব ধরনের টিকা দেওয়া হয়। জেলায় ৯৮টি ইউনিয়নে ২৯৪টি টিকাকেন্দ্র এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে ৭২টি টিকাকেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে টিকাকেন্দ্র রয়েছে। যেসব শিশুকে নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া যায়নি, তাদের কী হবে প্রশ্নে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে তিনটি টিকা দিতে হয়। সর্বনিম্ন ২৮ দিন এবং সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে টিকা দিতে হয়। তাই এটি নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, দু-তিন মাস ধরে জেলায় পেন্টাভ্যালেন্ট ও পিসিভি টিকার সংকট রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। শিগগিরই টিকা এসে পৌঁছাবে বলে জানান তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন