বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে আবদুল হককে কান্দিপাড়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা থেকে এবং আবুল কাশেমকে আশুগঞ্জ বাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে হেফাজত কর্মী আবুল হোসেনকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুফতি আবদুল হক ও আবুল কাশেম ভূঁইয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, গত ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে তাঁরা জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসাসহ আশপাশের বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র–শিক্ষককে নিয়ে ব্যাপক সহিংসতা চালান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৬টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৪০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি সবাই অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী। ৫৬টির মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ৪৯টি, আশুগঞ্জ থানায় চারটি, সরাইল থানায় দুটি ও আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা হয়।

সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকাল নয়টা পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২ মাস ১৫ দিনে সহিংসতার ঘটনায় ৫৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ২৬ ও ২৭ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ও সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বিশেষ অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হেফাজতের কর্মী-সমর্থক।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন