ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিক শাহাদতের ওপর হামলার ঘটনায় আরেক আসামি গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শাহাদৎ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় আরেক আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে কাজীপাড়া এলাকা থেকে জুম্মান মিয়া (৩৬) নামের ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে মামলার আরেক আসামি রোমান মিয়ার (২৮) দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকি-আল-ফারাবী রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

শাহাদতের পক্ষের আইনজীবী নাসির মিয়া ও তারেকুল ইসলাম বলেন, রোমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

আইনজীবী এ কে এম ফেরদৌস ও আপেল মাহমুদ রোমানের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

রোমান মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাজীপাড়ার রউফ মিয়ার ছেলে। তিনি ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে রোমানের বড় ভাই জুম্মান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্সের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারী। তিনি নিজেকে জেলা সৈনিক লীগের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেন।

হামলায় আহত সাংবাদিক শাহাদৎ হোসেন ১ জুন রাতে রোমান ও জুম্মানের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার পথে পৌর শহরের বিরাসার এলাকা থেকে পুলিশ রোমানকে গ্রেপ্তার করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বলেন, মামলার আরেক আসামি জুম্মান মিয়াকে দুপুরে সদরের কাজীপাড়ার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন এলাকায় হামলার শিকার হন শাহাদৎ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ওই দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন চালুর দাবিতে বেলা ১১টার দিকে স্টেশন চত্বরে সচেতন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর ব্যানারে মানববন্ধনের আয়োজন করে জেলা ছাত্রলীগ।

সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান শাহাদৎ। মানববন্ধন শেষের দিকে শাহাদৎ জানতে পারেন, ছাত্রলীগের এক কর্মী স্টেশনের গেটকিপার মুরাদুল ইসলামকে মারধর করেছেন।

বিষয়টি মানববন্ধনে উপস্থিত থাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও যুবলীগ নেতা হাসান সারোয়ারকে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হন রোমান মিয়া।

একপর্যায়ে হাসান সারোয়ারের সামনেই শাহাদৎকে মারধর করেন রোমান। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য সাংবাদিকেরা শাহাদৎকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিক শাহাদৎ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’