পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বাসুদেব গ্রামের নাজির ভূঁইয়া ও গিয়াস উদ্দিন একসময় লেবাননে ছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে তাঁরা একেবারে দেশে চলে আসেন। লেবাননে থাকার সময় তাঁদের মধ্যে লেনদেন হয়। গিয়াস উদ্দিনের কাছ থেকে টাকা পেতেন নাজির। কিন্তু গিয়াস টাকা পরিশোধ করছিলেন না। এ নিয়ে সপ্তাহখানেক আগে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম মোল্লা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিস করেন। তখন গিয়াস উদ্দিনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সালিসের রায়ের ২ লাখ টাকার মধ্যে ২০ এপ্রিল গিয়াস উদ্দিন ১ লাখ ৬০ টাকা ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে দেন। বাকি টাকা কাল সোমবার চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম মোল্লা সেই টাকা বুঝিয়ে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন নাজির। সেই ক্ষোভ থেকে আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নাজির হাতে বাঁশ ও মাথায় হেলমেট পরে ইউনিয়র পরিষদে যান। সেখানে তিনি চেয়ারম্যান ও সচিবের কক্ষে ঢুকে টেবিল ও উদ্যোক্তার কক্ষে ঢুকে দুটি কম্পিউটার ভাঙচুর করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করেন। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়ামিন হোসেন ও সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এ সময় লোকজন নাজিরকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন বলেন, এই ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, জরিমানার ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা তাঁর কাছে জমা দেন। সোমবার এ ঘটনায় দ্বিতীয় দফায় সালিসের সময় নির্ধারণ করা হয়। বাকি টাকা সোমবারে দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে নাজির সরকারি কার্যালয় ভাঙচুর করে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন।

বাসুদেব বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে অভিযোগ পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন