default-image

বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, সদর উপজেলার নন্দনপুর বাজার এলাকায় মৌলভীবাজারের এক কনস্টেবলের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ছিনতাই হওয়া চায়নিজ রাইফেলের ২০টি গুলি ১৩ দিন পর একটি মিষ্টির দোকান থেকে উদ্ধার করেছে ‍পুলিশ। এ ঘটনায় দুই হেফাজত কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে সদর উপজেলার সুহিলপুর বাজারের পিয়াসা মিষ্টিভান্ডার দোকানের টিনের চালা থেকে ওই ২০ গুলি উদ্ধার করা হয়। আজ শনিবার বিকেলে জেলা পুলিশ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের সুহিলপুর হিন্দুপাড়ার জয়নাল আবেদীনের বাড়ির ভাড়াটে মনির মিয়া (৪২) ও একই ইউনিয়নের দক্ষিণ কেন্দুবাড়ির আরব আলী (৪০)।

২৭ মার্চ বেলা সাড়ে তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলাকালীন মৌলভীবাজার থেকে পুলিশি পাহারায় একজন আসামি নিয়ে পুলিশের একটি দল নন্দনপুর বাজার এলাকায় পৌঁছে। তখন বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ও গুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান।
বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬–২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাজুড়ে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা চালান। ২৭ মার্চ বেলা সাড়ে তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত জেলা শহরের বাইরে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সদর উপজেলার নন্দনপুর বাজার এলাকায় হেফাজতের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই দিন বিক্ষোভ চলাকালীন মৌলভীবাজার থেকে পুলিশি পাহারায় একজন আসামি নিয়ে পুলিশের একটি দল নন্দনপুর বাজার এলাকায় পৌঁছে। তখন বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওই দলের ওপর হামলা চালান। বিক্ষোভকারী হেফাজতের কর্মী-সমর্থকেরা পুলিশ সদস্যদের ব্যাপক মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশের অস্ত্র ও গুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। সে সময় মৌলভীবাজার পুলিশের কনস্টেবল তুহিন হাসানকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাঁর কাছ থেকে চায়নিজ রাইফেলের ২০টি গুলি ছিনিয়ে নিয়ে যান হেফাজতের বিক্ষোভকারী সমর্থকেরা। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে।

শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে পুলিশ ভিডিও ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুহিলপুর এলাকা থেকে হেফাজত কর্মী আরব ও মনিরকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুহিলপুর বাজারের পিয়াসা মিষ্টিভান্ডার দোকানের টিনের চালা থেকে ঘটনার দিন ছিনিয়ে নেওয়া ২০টি গুলি উদ্ধার করা হয়। আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন