default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি মুবারকুল্লাহকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ। গতকাল শুক্রবার রাতে জেলা গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলা ছাত্রলীগ এই দাবি জানায়।

সাজিদুর রহমান জেলার দারুল আরকমা উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠাতা এবং মুফতি মুবারকুল্লাহ জেলার কান্দিপাড়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।

ছাত্রলীগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে হেফাজত এবং তাদের নেতা মাওলানা সাজিদুর রহমান এবং মুফতি মুবারকুল্লাহ জড়িত ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল এবং সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবদুর রহিম কাসেমি হেফাজত থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি সহিংসতায় হেফাজতের নেতা মাওলানা সাজিদুর রহমান ও মুফতি মুবারকুল্লাহকে জড়িত উল্লেখ করে তাঁদের বিচারের দাবি জানান। এর মধ্য দিয়ে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে হেফাজত এবং তাদের নেতা মাওলানা সাজিদুর রহমান এবং মুফতি মুবারকুল্লাহ জড়িত ছিলেন। তাই হামলাকারী এবং হামলার নির্দেশদাতাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল দুপুর ১২টার দিকে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষাসচিব, কেন্দ্রীয় হেফাজতের সদস্য ও জেলা হেফাজতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা ও হেফাজতের সব দায়িত্ব ও পদ থেকে পদত্যাগ করেন আবদুর রহিম কাসেমি। একই সঙ্গে তিনি ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। যাঁদের প্ররোচনায় দেশ ও জনগণের জানমাল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য তিনি সরকার ও প্রশাসনকে বিনীত অনুরোধ করেন।

এর আগে সহিংসতার ঘটনার পর ৫ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে যান হেফাজতের নেতা-কর্মীরা। সেখানে কেন্দ্রীয় হেফাজতের নায়েবে আমির সাজিদুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের কাছে এসেছি সমবেদনা জানানোর জন্য। দুঃখ প্রকাশ করার জন্য। আমরা ২৮ মার্চ শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করেছি। হরতালে বলেছি, কেউ সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করবেন না। যদি কেউ ভাঙচুর করেন, তিনি আমাদের লোক নন। আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করে মাদ্রাসার সামনে অবস্থান করেছি। কে বা কারা প্রেসক্লাব, ভূমি অফিসসহ আরও বিভিন্ন স্থাপনায় ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমরা জানি না। আমরা আগেও নিন্দা জানিয়েছি, এখনো জানাই।’ তিনি বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের বের করা আপনাদের দায়িত্ব। যারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও ভাঙচুর করে, তারা কোনো দিন হেফাজতের হতে পারে না। আমাদের হতে পারে না। আমরা নিন্দা জানাই। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে আমাদের আসতে দেরি হয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন