default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে চালানো তাণ্ডবের ফলে এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘যেগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে সেগুলো ঠিকঠাক করতে সময়ের প্রয়োজন। সিগন্যাল–ব্যবস্থা সবগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে। এগুলো ঠিক করতে দুই-চার-পাঁচ-ছয় মাস যাই হোক সময় লাগবে। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব মেরামত করে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করব। তবে ঠিক কত দিন সময় লাগবে, তা বলতে পারছি না।’

আজ সোমবার বেলা তিনটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন পরিদর্শনে আসেন মন্ত্রী নূরুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজত এই হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। হেফাজতের অভয়ারণ্যে ২০১৩ ও ২০১৪ সালেও একই শক্তি দেশকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করেছে। এটা সরকারের বিরুদ্ধে না, আক্রমণ হচ্ছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। অবশ্যই তাদের বিচার হবে।

ছয় মাস সময় লাগার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এ রকম লাগতে পারে। আমি ইতিমধ্যে কমিটি করে দিয়েছি। কমিটির সদস্যরা পরিদর্শন করেছে। কী কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, কত টাকার ক্ষতি হয়েছে, এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন তারা দেবে। ক্ষতির প্রতিবেদন এখনো পাইনি।’

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বলেন, ‘লকডাউনের কারণে পরিবহন বন্ধ আছে। যোগাযোগব্যবস্থা চালু থাকলে আমরা রেলস্টেশনে ট্রেন দাঁড় করাতে পারতাম না। তাহলে এই এলাকার মানুষের চলাচলে যে ভোগান্তি হতো, এটা কী দিয়ে পূরণ করতেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুধু রেলস্টেশন না, প্রেসক্লাবসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। পৌরসভা জনগণের সম্পদ। সেখানে কেন হামলা হয়েছে। যে জায়গাগুলোতে হামলা হয়েছে, এগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এই শক্তি (হামলা) রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব মোকাবিলা করতে হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে পুনরায় ট্রেন থামানো প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও ঢাকার পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন। সেটি আমাদের মাথায় আছে। তাই এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট করে তারিখ বলতে পারব না। সিগন্যালিং–ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার ও এসব ঠিকঠাক করে আমরা আবার রেলস্টেশনে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করব।’

২০১৬ সালেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন হামলার বিচার এখনো হয়নি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ২১ বছর। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে আমাদের সময় লেগেছে। এখনো বিচার হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন হামলার ঘটনার অবশ্যই বিচার হবে।’

এ সময় রেলমন্ত্রীর সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সর্দার শাহাদাত আলি, ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে মহাব্যবস্থাপক সাদিকুর রহমান, জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খাঁন, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আনিসুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ শোহেবসহ রেলওয়ে কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন