default-image

দুদকের করা অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির মামলায় কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে অবস্থিত ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য আবদুস সাত্তারসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বাকি দুজন হলেন বোর্ড অব ট্রাস্টির কোষাধ্যক্ষ মো. ছিদ্দিকুর রহমান ও সদস্য শহীদ আজিজ।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে তাঁরাসহ পাঁচ আসামি জামিন আবেদন করেন। আদালত এ সময় দুই নারীকে জামিন দেন এবং ওই তিনজনের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত পাঁচজন শিক্ষক দাবি করেন, ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের দ্বন্দ্বের জের ধরে বিশিষ্ট গণিতবিদ আবদুস সাত্তারকে জেলে যেতে হলো। এটা প্রবীণ গণিতবিদকে হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়। তাঁরা আবদুস সাত্তারের মুক্তি চান বলে জানান।

আবদুস সাত্তার কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের ছেলে। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক অধ্যাপক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত পাঁচজন শিক্ষক দাবি করেন, ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের দ্বন্দ্বের জের ধরে বিশিষ্ট গণিতবিদ আবদুস সাত্তারকে জেলে যেতে হলো। এটা প্রবীণ গণিতবিদকে হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুমিল্লার সহকারী পরিচালক এইচ এম আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা মোতাবেক ৭২ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চার সদস্যের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এই মামলার আসামিরা হলেন ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হক, সদস্য সাইফুল আহমেদ চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ মো. ছিদ্দিকুর রহমান, সাবেক উপাচার্য আবদুস সাত্তার।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা ২০১৩ সালের ২২ জুন থেকে ২০১৭ সালের ২১ জুন পর্যন্ত ৭২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। তখন উপাচার্যের বেতন ধরা হয়েছিল মাসে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কিন্তু উপাচার্যকে প্রতি মাসে দেওয়া হয় পাঁচ লাখ টাকা। ৪৮ মাসে অতিরিক্ত দেড় লাখ টাকা করে ৭২ লাখ টাকা বেশি খরচ দেখানো হয়।

এরপর আসামিরা গত ২৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। হাইকোর্ট তাঁদের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জামিন দেন। একই সঙ্গে জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ এই মামলায় সৈয়দ এহসানুল হক ও সাইফুল আহমেদ চৌধুরী ছাড়া অপর দুই আসামি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করেন।

নথিপত্র ঘেঁটে মনে হচ্ছে উভয় মামলায় সবচেয়ে বড় অপরাধী হলেন কোষাধ্যক্ষ মো. ছিদ্দিকুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে অন্যরা এই ঘটনায় জড়ান।
আসফিকুর রহমান, দুদকের আইনজীবী

এদিকে ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুমিল্লার সহকারী পরিচালক এইচ এম আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে জালিয়াতির আরেকটি মামলা করেন। এই মামলায় আসামি করা হয় নয়জনকে। আসামিরা হলেন ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হক, কোষাধ্যক্ষ মো. ছিদ্দিকুর রহমান, ঢাকার পূর্ব শেওড়াপাড়ার শহীদ আজিজ, ট্রাস্টি সদস্য সাইফুল আহমেদ চৌধুরী, শহীদ আজিজের সহধর্মিণী ফারহানা রহমান, রাজগঞ্জ ছিদ্দিক ম্যানশনের বাসিন্দা ও ছিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী মেরিনা জেবিন, সাবেক উপাচার্য আবদুস সাত্তার, ইউনিয়ন ব্যাংক কুমিল্লার পদুয়ার বাজার শাখার ব্যবস্থাপক আনিছ আহমেদ এবং একই ব্যাংকের একই শাখার ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মোহাম্মদ সোলায়মান।

ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, এই আসামিরা বোর্ড অব ট্রাস্টির সব সদস্যকে না জানিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংকে হিসাব খোলেন। ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট পর্যন্ত আসামিরা ওই হিসাব থেকে ৬ কোটি ৮০ লাখ ৯ হাজার ৪৮৬ টাকা লেনদেন করেন। পরে এই মামলা থেকে ইউনিয়ন ব্যাংকের দুই ব্যবস্থাপককে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই মামলার অপর সাত আসামি গত ২৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। হাইকোর্ট তাঁদের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জামিন দেন। একই সঙ্গে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ এই মামলায় সৈয়দ এহসানুল হক ও সাইফুল আহমেদ চৌধুরী ছাড়া অপর পাঁচ আসামি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহ দুই নারীকে জামিন দেন। সাবেক উপাচার্য আবদুস সাত্তার, মো. ছিদ্দিকুর রহমান ও শহীদ আজিজের জামিন আবারও নামঞ্জুর করেন।

দুদকের আইনজীবী আসফিকুর রহমান বলেন, নথিপত্র ঘেঁটে মনে হচ্ছে উভয় মামলায় সবচেয়ে বড় অপরাধী হলেন কোষাধ্যক্ষ মো. ছিদ্দিকুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে অন্যরা এই ঘটনায় জড়ান। মামলার বিবাদী মেরিনা জেবিন তাঁর শিশুসন্তান নিয়ে আদালতে হাজির হলে পরে দুই নারী বিবাদীকে জামিন দেন জেলা ও দায়রা জজ।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন