গত বৃহস্পতিবার সকালে আড়পাড়া গ্রামের ধানখেতে গিয়ে দেখা গেছে, ব্রি-৬৩ জাতের ধানখেতের গাছগুলো সমানভাবে বেড়ে ওঠেনি। কোনো গাছ খাটো, কোনোটা বেশি লম্বা আবার কোনো গাছ মাঝারি; অর্থাৎ একই খেতে তিন ধরনের ধানগাছ দেখা গেছে। এর মধ্যে কোনো গাছের শিষ এসেছে, কোনোটাতে শিষ এসে ধানে হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। আবার কোনো গাছের ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে।

কৃষক শামছুর রহমান বলেন, ‘আড়াপাড়া মাঠে চার বিঘা জমিতে ব্রি-৬৩ জাতের ধান আবাদ করে এবার ফেঁসে গেছি। বিএনডিসির ধানের বীজে ভেজাল হয়ে গেছে। এতে এবার ফলন ভালো হবে না।’

কৃষক আবদুল মান্নান তরফদার বলেন, ‘স্থানীয় হাসিমপুর বাজারে শামীমের দোকান থেকে ব্রি-৬৩ ধানের বীজ কিনে আবাদ করেছি। সেই বীজে ভেজাল হয়ে গেছে। আবাদ করা খেতের চার ভাগের এক ভাগ অন্য জাতের ধানবীজ পাওয়া গেছে। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।’

হাসিমপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ‘শামীমের বীজ দোকান নামে পরিচিত দোকানটি বন্ধ রয়েছে। দোকানের দরজায় লেখা মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে কামরান হোসেন নামের একজন নিজেকে ওই দোকানের ব্যবস্থাপক দাবি করে বলেন, ‘আমরা আমাদের লাইসেন্সে এ বছর বিএডিসি থেকে ১০ কেজি ওজনের ১০০ বস্তা ব্রি-৬৩ ধানের বীজ সংগ্রহ করে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করেছি। ওই বীজে ভেজাল ছিল কি না, তা আমরা বলতে পারব না। ভেজাল থাকলে সেই দোষ বিএডিসি কর্মকর্তাদের। আমরা কী করব?’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএডিসি (বিপণন) যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) থেকে বিশুদ্ধ হিসেবে ব্রিডার (প্রজনন) বীজ সংগ্রহ করে ভিত্তি, প্রত্যয়িত ও মান ঘোষিত বীজ উৎপাদন করে পরিবেশকের (ডিলার) মাধ্যমে কৃষকের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। কৃষক ওই বীজ আবাদ করেছেন। মূলত ব্রি ধানের প্রজনন বীজে সমস্যা ছিল। বিষয়টি ব্রি কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার ব্রি থেকে তিনজন বিজ্ঞানী ধানের মাঠ পরিদর্শনও করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমরা যশোরে গিয়ে কৃষকের ধানখেত দেখে এসেছি। বিএডিসি কর্মকর্তাদের অভিযোগ মোটেও সত্য নয়। ব্রি-৬৩ ধানের বীজের সমস্যা বুঝতে হলে ঢাকায় আসতে হবে।’ ফোনে বলে বোঝানো যাবে না বলেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

কৃষকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত বলেন, ব্রি-৬৩ খুব ভালো জাতের ধান। কিন্তু এ বছর বীজে কিছুটা ভেজাল পাওয়া গেছে, এটা সত্য। এটা বিএডিসি ও ব্রির সমস্যা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন