তমাল হোসেনের পাশের খেতটি একই গ্রামের কৃষক লাল্টু মোল্যার। তিনি ৩৫ শতক জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান লাগিয়েছেন। নেকব্লাস্টে আক্রান্ত হয়ে তাঁর সম্পূর্ণ জমির ধানের শিষ শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে। লাল্টু মোল্যা বলেন, ‘ব্লাস্ট রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই ওষুধ কিনে খেতে দিয়েছিলাম। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। সব ধানের শিষ শুকিয়ে গেছে। এক গোছা ধানও হবে না।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় এবার বোরো ধানের চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে। তবে কী পরিমাণ জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধানের চাষ হয়েছে, তার কোনো তথ্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয় জানাতে পারেনি।

কিন্তু কৃষকেরা বলেন, ব্রি-২৮ জাতের ধানের ভাত খেতে খুব ভালো। ধানের দামও সব সময় অন্যান্য ধানের চেয়ে বেশি থাকে। এ জন্য তাঁরা জেলার অনেক জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধানের চাষ করেন। এবার বেশির ভাগ জমির ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলের বোরোখেতে মূলত দুই ধরনের ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়। এর একটি লিফব্লাস্ট, অপরটি নেকব্লাস্ট। লিফব্লাস্ট রোগটি ধানের পাতায় দেখা দেয়। এ রোগে ধানের পাতায় ছিটা ছিটা ও লম্বাটে বাদামি রঙের দাগ দেখা দেয়। এ রোগ দেখা দিলে ট্রাইসাইক্লাজন গ্রুপের ছত্রাকনাশক ছিটিয়ে প্রতিকার পাওয়া যায়। এ রোগ দেখা দেওয়া মাত্র খেতে পানি দেওয়া বন্ধ করে দিতে হবে।

হাফিজুর রহমান আরও বলেন, নেকব্লাস্ট দেখা দেয় ধানের শিষের নিচের অংশে। নেকব্লাস্ট রোগে শিষের নিচের অংশে (গলা) কালো দাগ দেখা দেয়। পরে সেখানে পচন দেখা দেয়। এতে ধানের খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আস্তে আস্তে ধানের শিষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। শিষের সব ধান চিটা হয়ে যায়। ট্রাইসাইক্লাজন গ্রুপের ছত্রাকনাশক ছিটিয়েও এতে ফল পাওয়া যায় না। তাপমাত্রার তারতম্যের জন্য মূলত ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়। দিনে গরম ও রাতে শীতের কারণে বোরোখেতে এ রোগ দেখা দেয়। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি এবং তাপমাত্রা বেশি থাকলে এ রোগের দ্রুত বিস্তার ঘটে। ব্রি-২৮ এবং ব্রি-৫০ জাতের ধানে এ রোগের বেশি প্রকোপ দেখা দেয়।

অভয়নগর উপজেলার বগুড়াতলা গ্রামের কৃষক মাহাবুর গাজী বলেন, ‘আমি এবার আট কাঠা জমিতে ব্রি-২৮ জাতের বোরো ধান চাষ করেছি। আমার সম্পূর্ণ জমির ধানের শিষ একেবারেই শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে। ধান কেটেছি। শিষে ধান নেই। শুধু চিটা আর চিটা। আমাদের এই ছোট বিলে অন্তত পাঁচ-ছয়জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) দীপঙ্কর দাশ বলেন, ‘ব্রি-২৮ পুরোনো জাতের ধান। এ জাতের ধানে ব্লাস্টের সংক্রমণ বেশি হয়। আমরা প্রথম থেকে কৃষকদের এ জাতের ধান লাগাতে নিরুৎসাহিত করছি। ব্রি-২৮ জাতের খেতের পাশের কিছু খেতে অন্য জাতের ধানেও ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এ রোগ দেখা মাত্র ট্রাইসাইক্লাজন গ্রুপের ছত্রাকনাশক ছিটাতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন