বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক একদল লোক ধানাইদহ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ঢোকেন। এ সময় বেসরকারি ৭১ টেলিভিশনের বড়াইগ্রাম সংবাদদাতা আবু মূসা ভিডিও করতে যান। তখন তাঁরা তাঁকে মারধর করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী সামসুজ্জোহা (ঘোড়া প্রতীক) ওই কেন্দ্রে আসেন। তিনি ব্যালট রক্ষার জন্য কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। পরে নৌকার কর্মীরা ছুটে এসে তাঁকে মারধর করেন। হামলাকারীরা ওই কেন্দ্রের মাঠে রাখা বড়াইগ্রাম প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের বহনকারী একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ ও পুলিশ সুপার (এসপি) লিটন কুমার সাহা ঘটনাস্থলে আসেন। আহত চেয়ারম্যান প্রার্থী সামসুজ্জোহা তাঁদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন এবং আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশ মশাল প্রতীকের এজেন্ট রফিকুল ইসলামকে কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করে সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনার পর বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামকে দুটি ঘটনায় পৃথক মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন এসপি। জেলা প্রশাসক প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। কেন্দ্রের মধ্যে তখনো বিপুলসংখ্যক বহিরাগত ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। পরে টহল পুলিশ সবাইকে বের করে দিয়ে কেন্দ্রের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়।

সামসুজ্জোহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার সামনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নিলুফার ইয়াসমিনের নেতৃত্বে তাঁর কর্মীরা জোর করে ব্যালট ছিঁড়ে নিচ্ছিলেন। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে অনুরোধ করি। তাঁরা আমার অনুরোধ আমলে নেননি। এই সুযোগে নৌকার লোকজন আমাকে বেদম মারধর করেছে। আমার মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি।’

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নিলুফার ইয়াসমিন মুঠোফোনে বলেন, তিনি বা তাঁর কোনো কর্মী ধানাইদহ কেন্দ্রে গোলযোগ করেননি। বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী সামসুজ্জোহা তাঁর লোকজন নিয়ে কেন্দ্রে তাঁর কর্মীদের ওপর হামলা করেছেন

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার সামনে ব্যালট ছিঁড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। কেন্দ্রের কোনো ব্যালট খোয়া যায়নি। আকস্মিকভাবে কিছুটা গোলযোগ হলেও পুলিশ তা দমন করেছে।’ কেন্দ্রের ভেতর প্রার্থীকে মারধর ও সাংবাদিকদের গাড়ি ভাঙচুর করার ব্যাপারে জানতে চাইলে সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি ঘটনাটি দেখিনি।’

এসপি লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘আমি সেখানে গিয়ে ঘটনার খোঁজখবর নিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। এ ব্যাপারে দুটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন