বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এবার হাওরে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জেলায় ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঘাটতি থাকবে। সেটার পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন। সুনামগঞ্জে এবার ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১৩ লাখ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত ৯ লাখ ৭১ হাজার ৪৬৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এবার জেলার ১৩৭টি ছোট-বড় হাওরে ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এই জমি দুই ভাগে বিভক্ত। একটা অংশ হাওরের ভেতরে, এই অংশের ফসল ঝুঁকিতে থাকে। এবার এই জমির পরিমাণ ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৩০ হেক্টর। ৫ মে এই হাওরের ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। হাওরের বাইরে (উঁচু অংশ) জমি আছে ৫৭ হাজার ৫৭৫ হেক্টর। রোববার পর্যন্ত এই অংশের ৩৩ হাজার ৯৮৩ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। বাকি আছে ২৩ হাজার ৫৯২ হেক্টর। মে মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত এই ধান কাটা চলবে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওরপাড়ের জগজীবনপুর গ্রামের কৃষক আলা উদ্দিন (৭০) জানান, হাওরে তিনি ১১ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। যখন উজানের ঢলে একের পর এক হাওরে পানি ঢুকছিল, তখন তিনি ছিলেন অস্থির। কী করবেন, বুঝতে পারছিলেন না। কারণ, তখনো জমির ধান পাকেনি। একপর্যায়ে সবকিছু প্রকৃতির ওপর ছেড়ে দেন। এরপর ধান পাকলে ২৪ এপ্রিল থেকে কাটা শুরু করেন। রোববার দুপুরে আলাউদ্দিন বলেন, অর্ধেক জমির ধান গোলায় তুলেছি। বাকি ধানও কাটা শেষ। এখন মাড়াই ও শুকানোর কাজ চলছে। দুই-চার দিনের মধ্যে সব ধানই তোলা শেষ হয়ে যাবে। একই গ্রামের আরেক কৃষক আজির উদ্দিন (৫৫) বলেন, ‘আমরা ধান পাইছি, এতে খুশি। কিন্তু যারা পায়নি, তাদের জন্য মনটা খারাপ। ধান না পাইলে কী যে কষ্ট, এটা কৃষক ছাড়া কেউ বুঝবে না।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেছেন, আর কোনো শঙ্কা নেই। এখন আবহাওয়া খুবই ভালো। শেষ পর্যন্ত ধান গোলায় তুলতে পেরে কৃষকেরা খুশি।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, ‘এবার যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে আমরা ফসল নিয়ে শঙ্কায় ছিলাম। কিছু ক্ষতি হলেও সবার চেষ্টাতেই কৃষকেরা শেষ পর্যন্ত তাঁদের ফসল গোলায় তুলতে পেরেছেন। পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’

সুনামগঞ্জে এবার পাহাড়ি ঢল আসতে শুরু করে ৩০ মার্চ থেকে। এতে জেলার নদ-নদী ও হাওরে প্রচুর পরিমাণে পানি বৃদ্ধি পায়। ঝুঁকিতে
পড়ে জেলার সব হাওরের বোরো ধান। মানুষ বাঁধ রক্ষায় হাওরে হাওরে প্রাণপণ চেষ্টা চালায়। তবু একের পর এক হাওরের বাঁধ ভেঙে ও বাঁধ উপচে ঢলের পানি ঢোকে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন