বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কয়েকজন খামারির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে কোরবানির হাটের অন্তত দুই মাস আগে থেকে ব্যাপারীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে গরু কেনেন। করোনার কারণে এবার দূরদূরান্ত থেকে গরু ব্যবসায়ীরা তারাগঞ্জে খামার ও কৃষকের কোনো বাড়িতে গরু কিনতে আসেননি। ঈদের এক সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছে পশুর হাট। ফলে ক্রেতার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় গরুর দাম কমেছে। ছোট ও মাঝারি গরু বিক্রি হলেও বড় গরু বিক্রি হচ্ছে না। গরু পালনকারীরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আজম বলেন, ‘আমার খামারে ৪০টি গরু কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। আগে বাইরের ব্যবসায়ীরা খামারে এসে গরু কিনে নিয়ে যেত। কিন্তু এবার তাদের দেখা নেই। গত রোববার ইকরচালী হাটে ১০টি গরু বিক্রির জন্য নিয়েছিলাম। দাম না পাওয়ায় তা বেচিনি। সোমবার তারাগঞ্জের হাটে ১০টির মধ্যে মাত্র ২টি গরু আসল দরে বিক্রি করতে পেরেছি। করোনায় খামারিদের লোকসান গুনতে হবে।’

সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তারাগঞ্জের অস্থায়ী পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটে হাজারো গরু উঠেছে। সে তুলনায় ক্রেতা নেই। ছোট ছোট দলে চার–পাঁচজন করে গরু দেখছেন, দামও শুনছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনবরত মাইকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও ক্রেতা–বিক্রেতা সেসব মানছেন না।

ওই হাটের প্রবেশদ্বারে গরুকে ঘাস খাওয়াচ্ছিলেন জুম্মাপাড়া গ্রামের শেখ সাদী। তিনি বলেন, হাটে বড়–মাঝারি মিলে ৪টি ষাঁড় বিক্রির জন্য তুললেও মাঝারি ২টি ষাঁড় ৭০ ও ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। ১১-১২ মণ ওজনের ষাঁড় দুটির দাম সাড়ে ৩ লাখ টাকা চাইলেও ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ওপরে কেউ দাম করছেন না।

শেরমস্ত গ্রামের গোলাপ মিয়া সাত বছর ধরে ষাঁড় লালন–পালন করে আসছেন। এবার তিনি দেশি জাতের আটটি ষাঁড় মোটাতাজা করেছেন। প্রতিদিন তাঁর খামারে গরুর পেছনে খইল, ভুসি, চালের গুঁড়া, খড় ক্রয় বাবদ প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এ ছাড়া মজুরি খরচ, বিভিন্ন ভিটামিনসহ রোগপ্রতিরোধী ওষুধের পেছনেও অনেক খরচ রয়েছে। এখন পর্যন্ত গরু বিক্রি না হওয়ায় তিনি ৮-১০ মণ ওজনের ৪টি গরু বিক্রির জন্য তারাগঞ্জ হাটে এনেছেন।

গোলাপ মিয়া বলেন, ‘হাটে বড় গরুর ক্রেতা নেই। অনেকে দাম জানতে চায়। দাম শুনেই চলে যায়। করোনার কারণে এবার লাভের আশা ছেড়ে দিয়েছি।’

হাটে ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে মাস্ক নেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা, ভিড় ঠেলে চলতে হচ্ছে ক্রেতাদের। গরু কিনতে আসা নেকিরহাট দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আমিনুর ইসলাম বলেন, ‘কোরবানির গরু কিনতে হাটে এসে দেখি, এখানে সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। কেউ কেউ মাস্ক পরলেও থুতনির সঙ্গে ঝুলে রেখেছেন।’

হাটে শিক্ষক আমিনুরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মফিজুল ইসলামের মুখে মাস্ক ছিল না। জানতে চাইলে মফিজুল বলেন, ‘বাবা, হাটোত কেমন করি করোনা ঢুকবে? এটে তো খুব গরম। গরমের জন্যে মুখোত মাস্ক থুবার পাওছি না। খুলি পকেটোত থুছি।’

জানতে চাইলে হাটের ইজারাদার স্বপন চৌধুরী বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব মানা ও মুখে মাস্ক পরার জন্য সব সময় মাইকে বলা হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতারা তা মানছেন না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, কোরবানির পশুর হাটে তো ক্রেতা–বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য ইজারাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনও তদারক করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন