বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবুল হাশেম বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে ভাতাসংক্রান্ত তথ্য ঠিক করতে তালিকা পাঠানো হয় ইউপি কার্যালয়ে। গত সোমবার তালিকার মাধ্যমে জানতে পারেন তাঁর দাদি শাশুড়ির নামে বয়স্ক ভাতা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা যে মুঠোফোনের নম্বর দিয়েছিলেন তালিকায় সেই নম্বরের পরিবর্তে অন্য নম্বর (০১৭১২৪৫৮৮৬৯) রয়েছে। এতে তাঁর সন্দেহ হয়। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়াকে জানান। খোঁজ করে তাঁরা জানতে পারেন নম্বরটি ইউপি সদস্য পারুল আক্তারের মৃত স্বামীর। ভাতার আবেদনের কাগজ সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিতে ইউপি চেয়ারম্যান সদস্য পারুল আক্তারকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

ভাতার টাকা অন্য মুঠোফোনে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ বেহুলা। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘স্বামী মারা গেছে। আমি কত কষ্ট কইরা চলতাছি। আমার কোনো আয়রোজগার নাই। ছেলেরা দ্যাখলেও নিজের তো কিছু লাগে। আমার নগে যে এই রকম কাজ করলো তাঁর বিচার চাই।’

বেহুলার ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, তাঁরা গত ইউপি নির্বাচনে পারুলের পক্ষে কাজ করেছেন। কিন্তু সেই পারুল তাঁদের সঙ্গে বেইমানি করেছেন, যা বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া কিছুই নয়।

তবে পারুল আক্তার বলেন, ‘ভাতার আবেদনে আমি নম্বর দিইনি। কীভাবে আমার স্বামীর মুঠোফোন নম্বর তালিকায় গেছে, তা আমি জানি না। টাকা এসে থাকলে মুঠোফোনে আছে।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম জানান, ওই মুঠোফোন নম্বরে ৯ মাসে মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার টাকা নগদ অ্যাপসের মাধ্যমে বের করা হয়েছে। আর ১ হাজার ৫০০ টাকা মুঠোফোনে এখনো রয়েছে। ৩ হাজার টাকা ইউপি সদস্য বা অন্য কেউ বের করেছেন কি না, তা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিধবা ভাতা নিচ্ছেন দুই নারী ইউপি সদস্য
মহেড়া ইউপির নারী সদস্য হাজেরা আক্তার প্রায় দেড় বছর ও পারুল আক্তার প্রায় দুই বছর ধরে বিধবা ভাতা নিচ্ছেন।

এলাকাবাসী ও ইউপি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে হাজেরার স্বামী মো. আসাদুজ্জামান আর তিন বছর আগে পারুলের স্বামী আনোয়ার হোসেন মারা যান। তাঁদের বিধবা ভাতার প্রদানের বিষয়ে ইউপির সভায় আলোচনা হয়। সেখান থেকে দুইজনকে ভাতা প্রদানের জন্য সুপারিশ করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠালে তাঁদের নামে ভাতা মঞ্জুর হয়।

মুঠোফোনে হাজেরা বলেন, তাঁর তিন মেয়ে। একজনের বিয়ে হয়েছে। দুজন লেখাপাড়া করছে। ইউপি থেকে প্রাপ্ত সম্মানী দিয়ে সংসার চলে না। এ জন্য তিনি বিধবা ভাতা নিচ্ছেন।

পারুল বলেন, ‘মেম্বর হিসেবে আমার এই টাকা নেওয়া ঠিক নয়। ব্যক্তিগত হিসেবে এটা আমার জন্য প্রযোজ্য। সব মেম্বারের সামনে আমি প্রস্তাব করছিলাম ভাতাটা নেব কি না। সবাই নিতে বলছেন। এ জন্য ভাতা নিচ্ছি। আমার একটা ছেলে, একটা মেয়ে। খুবই কষ্ট করে দিন কাটাচ্ছি।’

ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া জানান, ইউপির সব সদস্য তাঁদের ভাতা দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। এ জন্য তাঁদের ভাতা প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছিল।

মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বলেন, তাঁরা নীতিগতভাবে বিধবা ভাতা নিতে পারেন না। তাঁরা ইউপি থেকে সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন। একই ব্যক্তি দুইভাবে সরকারি সুবিধা নিতে পারেন না। এটা অনৈতিক। বিষয়টি ইউনিয়ন কমিটিকে জানানো হবে। কমিটি তাঁদের ভাতা বাতিলের প্রস্তাব দিলে ভালো। না হলে উপজেলা কমিটিতে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন