default-image

রাজশাহীর বাগমারার ওরাওঁ সম্প্রদায়ের বয়স্ক নারী শুনীতি রানী অবশেষে ভাতা পেতে চলেছেন। ইতিমধ্যে সহযোগিতাও পেয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন অসহায় এই নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে।

শুনীতি রানীর (৬৩) বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ভবানীগঞ্জ গ্রামে। শুনীতি উপজেলার ওরাওঁ সম্প্রদায়ের একমাত্র বৃদ্ধ নারী। এক যুগ আগে তাঁর স্বামী মারা যান। এরপর থেকে ভবানীগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে একটি খুপরিতে বাস করছেন তিনি। হাটবাজার ঝাড়ু দিয়ে ও মাছের আড়তে পরিচ্ছন্নতার কাজ করে কোনোরকম দিন কাটাচ্ছেন তিনি। এ নিয়ে ৩ নভেম্বর প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘ভাতা না পেয়ে শুনীতি রানীর কষ্টের জীবন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি স্থানীয় লোকজন তাঁদের ফেসবুকে পোস্ট ও শেয়ার দেন। প্রতিবেদনটি বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নজরে আসে । পরদিন তিনি তাঁর কার্যালয়ের কর্মচারীদের মাধ্যমে শুনীতি রানীর খোঁজখবর নেন এবং তাঁর কার্যালয়ে আসতে বলেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এক প্রতিবেশীর সহযোগিতায় ৫ নভেম্বর ইউএনওর কার্যালয়ে আসেন শুনীতি রানী। এ সময় এই প্রতিবেদকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থ হওয়ায় তিনি কার্যালয়ের দোতলায় উঠতে না পেরে নিচেই ইউএনওর জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে ইউএনও শরিফ আহম্মেদ নিচতলায় নেমে আসেন। তিনি ইউএনওকে কাছে পেয়ে কেঁদে ফেলেন। এ সময় ইউএনও তাঁর হাতে নগদ দুই হাজার টাকা ও এক বস্তা খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। তিনি ভ্যানে করে তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

ইউএনও শরিফ আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম আলোর অনলাইনের মাধ্যমে বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। শুনীতি রানীকে বয়স্ক ভাতার তালিকাভুক্ত করা হবে। উপজেলা প্রশাসন তাঁর পাশে রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুনীতি রানী বলেন, ভাতা পেলে তাঁর অনেক উপকার হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুল মমিন বলেন, ইউএনওর নির্দেশে বিশেষ ব্যবস্থায় শুনীতি রানীকে বয়স্ক ভাতাভুক্ত করা হচ্ছে। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী সোমবার তাঁর হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0