বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নাটোর সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চবিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লটারির মাধ্যমে ২৪০ শিশুকে মনোনীত করা হয়। এর মধ্যে বালিকা বিদ্যালয়ে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর ভর্তি ফরম তুলে আজ সোমবার ভর্তি হতে বলা হয়। এদিকে বালক বিদ্যালয়ে ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর ভর্তি ফরম তুলে ২৫ ডিসেম্বর ভর্তি হতে বলা হয়। কিন্তু ভর্তি–ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের বয়স আট বছর পূর্ণ হয়নি, তাদের ভর্তি ফরম দেওয়া হচ্ছে না। ফলে দুই বিদ্যালয় মিলিয়ে বয়স জটিলতায় ৫৪ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ১০ জন অভিভাবক প্রথম আলোকে জানান, বয়সই যদি অযোগ্যতার কারণ হয়, তাহলে ওই শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য মনোনীত করা হলো কেন! শুরুতেই তাদের আবেদনপত্র বাতিল করা যেত। তাহলে আর শিশুরা কষ্ট পেত না।

গতকাল রোববার দুপুরে ভর্তির দাবিতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করতে চাইলে পুলিশের বাধায় সেটা সম্ভব হয়নি। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে ভর্তির সুযোগ চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।

সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, আট বছর পূর্ণ না হলে কেউ তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে না। তাহলে কেন ওই ৫৪ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সুরাহার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে গতকাল লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বয়স জটিলতায় ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।’

নাটোর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেন জানান, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা না বলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না।

জানতে চাইলে নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শামীম আহমেদ জানান, লটারির মাধ্যমে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীত শিশুদের জন্য বিষয়টি বেদনার। মনোনীত হওয়ার খবরে তারা যেমন উচ্ছ্বসিত হয়েছিল, এখন তারা ততটাই হতাশায় পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তিনি সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন