বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল বুধবার রাতে জীবন হাসান সোহেলকে সভাপতি এবং রাশেদ আলমকে সাধারণ সম্পাদক করে ৪৮ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা দেয় জেলা কমিটি। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটি ঘোষণার পর সাধারণ সম্পাদকের বয়স নিয়ে গুঞ্জন ওঠে। জেলা কমিটিতে জমা দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে রাশেদ আলম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংগৃহীত জন্মনিবন্ধন সনদ জমা দেন। তিনি উপজেলার নন্দনালপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের মো. রবিউল ইসলামের ছেলে। সেখানে তাঁর জন্ম তারিখ লেখা ১৬ অক্টোবর ১৯৯৩। চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের নিচে কোনো তারিখ লেখা নেই।

কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র অনুয়ায়ী তাঁর জন্ম ১৬ অক্টোবর ১৯৯১। পদের জন্য জন্মনিবন্ধনে বয়স কমানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ওয়াসিম আকরাম বলেন, নতুন সম্পাদক বয়স কমিয়ে পদ নিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের ছাত্রই নন। এই কমিটি বাতিল করা না হলে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

সদ্য বিলুপ্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, বয়স চুরি করে সাংগঠনিক নীতিমালা ভঙ্গ করে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রাশেদ আলমকে বসানো হয়েছে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া রাশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মসাল ভুল রয়েছে। সেটা সংশোধন করা হবে। একটি স্বার্থান্বেষী চক্র এ নিয়ে অপরাজনীতি করছে। জন্মনিবন্ধনের সালটি সঠিক।’

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ প্রথম আলোকে বলেন, রাশেদ আলম তার জীবনবৃত্তান্ত জেলা কমিটির সভাপতির কাছে জমা দেয়। সেখানে জন্মনিবন্ধন সনদ যুক্ত ছিল। জানামতে, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দেয়নি। জাতীয় পরিচয়পত্রের বয়স সম্পর্কে তিনিও অভিযোগ পেয়েছেন। এটা প্রমাণিত হলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নন্দনালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বলেন, ‘২০১৩ সালে জন্মনিবন্ধনটি তৈরি করা। অনেক সময় ব্যস্ততায় তারিখ লিখতে খেয়াল থাকে না। তবে স্বাক্ষর ও সিল আমার।’

কুমারখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শিরিনা আক্তার বানু বলেন, ‘নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য ডেটায় মো. রাশেদ আলমের নাম রয়েছে। সেখানে তাঁর জন্ম তারিখ ১৯৯১ সালের ১৬ অক্টোবর। কিন্তু জন্মনিবন্ধন–সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন