মামলাগুলোর আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সবুরের কাছে জিন আসে। তিনি জিনের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে দিতে পারেন বলে এলাকায় প্রচার আছে। তিনি জিনের মাধ্যমে সংসারের অভাবও দূর করতে পারেন। জিনের কাছে ৯৬ লাখ টাকা আছে বলে তিনি তিনি স্থানীয় এক ব্যক্তিকে জানান। এ জন্য তিনি তাঁকে জিন হাজির করানোর কথা বলেন। কয়েক দিন আগে জিন হাজির করানোর জন্য ওই ব্যক্তির মেয়ে ও শ্যালিকাকে রাতে নির্জন ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একাধিকবার তাদের ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শ্যালিকা ভগ্নিপতির কাছে বিষয়টি খুলে বলেন। ভগ্নিপতি সবুরের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

ধর্ষণের শিকার খালা বলে, সে দশম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায়। কয়েক দিন আগে সে বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসে। ১ জুন রাতে সবুর তার ভগ্নিপতির বাড়িতে আসেন। এ সময় প্রথমে তিনি তার ভাগনি ও পরে তার সঙ্গে একাকী কথা বলেন। কথা বলার একপর্যায়ে সবুর তাঁর এক হাত ধরে দোয়া পড়েন। এরপর চলে যান। রাতেই সবুর তাকে ফোন করেন। ফোনে জিন হাজির করানোর জন্য তাকে বাড়িতে যেতে বলা হয়। সে তার ভগ্নিপতির সঙ্গে সবুরের বাড়ি যায়। এ সময় তার ভগ্নিপতিকে বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়।

ধর্ষণের শিকার খালা আরও বলে, ‘ঘর অন্ধকার ছিল। নামাজ পড়ার সময় সবুর বাইরে ছিলেন। নামাজ শেষ হলে তিনি ভেতরে আসেন। এ সময় সালাম দিয়ে নিজেকে জিন হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি আমাকে বলেন, ‘‘জিনের ইচ্ছা পূরণ করতে হবে। নইলে তুই একেবারে পুড়ে মরবি। তোর বোন ও দুলাভাইয়ের বড় ক্ষতি হবে।’’ এরপর সবুর আমার হাত ও মুখ বেঁধে ফেলেন। এ ছাড়া শেষের দিন (১০ জুন) সবুর আমার ভাগনি ও আমাকে ধর্ষণ করেন। আমি ভয়ে কাউকে প্রথমে এসব কথা কাউকে বলিনি। কিন্তু পরে বোনের চাপাচাপিতে ধর্ষণের বিষয়টি ভগ্নিপতিকে বলি।’

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলা হয়েছে । এর মধ্যে একটি মামলা শ্যালিকা ও অপরটি ভগ্নিপতি করেছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, সবুর দুই সন্তানের জনক। বাড়িতে তাঁর একটি মুদিদোকান আছে। তিনি কবিরাজি করেন। মানুষকে ঝাড়ফুঁক দেন। তিনি সব সময় এলাকায় থাকেন না। মাঝেমধ্যে উধাও হয়ে যান। কয়েক মাস পর ফিরে এসে এলাকায় থাকেন।

খালা ও ভাগনিকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য সবুর মণ্ডলের মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমি কিছুক্ষণ আগে এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি জানি না। কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।’