বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ছয় দফা দাবি হলো প্রস্তাবিত প্রায় ৪৫ কোটি টাকার ‘ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ’ সেচ প্রকল্প বাতিল, ক্রাস প্রোগ্রামে মাঘী পূর্ণিমার আগেই বিল কপালিয়া টিআরএম (টাইডল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা জোয়ারাধার) চালু, ভবদহ স্লুইচ গেটের ভাটিতে পাঁচ–ছয়টি এক্সকাভেটর দিয়ে পাইলট চ্যানেল খনন ও ২১,৯, ৬ ভেন্টের গেটগুলো ওঠানামার ব্যবস্থা করা, জনপদের ফসল, বাড়িঘরসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, কৃষিঋণ মওকুফ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমডাঙ্গা খাল সংস্কারকাজে প্রি-ওয়ার্ক ও পোস্ট ওয়ার্ক জনসমক্ষে টাঙিয়ে দেওয়া ও কাজের স্বচ্ছতা নিরূপণে আন্দোলনকারী সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে তদারকি কমিটি গঠন করা এবং সরকারকে মিথ্যা তথ্য প্রদান, নদী হত্যা, জনপদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা, ফসল, বসতবাড়ি ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে জড়িত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবদহ জলাবদ্ধ এলাকার পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু ‘পানি সরাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগান দিতে দিতে ডিসি কার্যালয়ের সামনে আসেন। তাঁদের অনেকের মাথায় ছিল মাথাল। কাঁধে ছিল লাঙল, মই ও নিড়ানি। হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘পানি সরাও, মানুষ বাঁচাও’, ‘সেচ প্রকল্পে সমাধান হবে না, টিআরএম চালু কর’, ‘মাঘী পূর্ণিমার আগে বিল কপালিয়ায় টিআরএমের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কর’, ‘এলাকার সকল নদী ও খাল পুনরুদ্ধার কর’, ‘হরি, শ্রী ও মুক্তেশ্বরী নদীর সঙ্গে ভৈরব নদের সংযোগ দাও’, ‘আমডাঙ্গা খাল সংস্কার কর’ ইত্যাদি। এরপর তাঁরা ডিসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। বিকেল চারটা পর্যন্ত সেখানে তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির, কমিটির আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালী, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ, সদস্যসচিব চৈতন্য পাল, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি আবুল হোসেন, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্ক্সবাদী) সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, বিথীকা বিশ্বাস প্রমুখ। এ ছাড়া দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন পরিবেশ আন্দোলনের নেতা আজিজুল হক, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান, জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি দিপঙ্কর দাস প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘পাম্প দিয়ে ভবদহের পানি সরানো যাবে না। এই সমস্যা সমাধানে এই মুহূর্তে বিল কপালিয়ায় টিআরএম চালুর কোনো বিকল্প নেই। ইতিমধ্যে পাউবো প্রায় ৪৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে। সেখানে প্রায় ১৮ কোটি টাকার এক্সকাভেটর কেনা বাদে অন্য টাকা লুটপাট হয়ে যাবে। পাউবো আমাদের বলেছিল, ডিসেম্বরে আপনারা বিলে ধান রোপণ করতে পারবেন। কিন্তু এখনো ভবদহ এলাকার লাখ লাখ একর জমি পানির নিচে, ৩টি উপজেলার ১২০টি গ্রামের হাজার হাজার ঘরবাড়ি জলমগ্ন, ৪০-৫০টি স্কুল-কলেজে পানি।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত জলাবদ্ধ ভবদহের পানি সরানোর ব্যবস্থা না করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এখানেই অবস্থান করব। এতেও যদি কিছু না হয়, তবে আমরা ঢাকায় পাউবোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে লাগাতার ধরনা দেব। এই এলাকার মানুষ পানিতে ডুবে মরবে আর গুটিকয় স্বার্থান্বেষী লুটেপুটে খাবে, এমন পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যাবে না।’

অবস্থান কর্মসূচিতে এসেছিলেন মনিরামপুর উপজেলার পুড়াডাঙ্গা গ্রামের গৃহবধূ শ্যামলী মণ্ডল (৪৫)। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে এখনো হাঁটুজল। সেখানে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই।’

উপজেলার পদ্মনাথপুর গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘খুবই কষ্টে আছি। বিল কপালিয়ায় টিআরএম চালু এবং পানি সরিয়ে ধান চাষ করার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত আমি এখানে থাকব।’

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির বলেন, ‘আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। এর মধ্যে দাবি মানা না হলে বৃহস্পতিবার আরও বড় কর্মসূচি পালন করা হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন