বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মেসার্স আনন্দ ট্রেডার্স ধান–চাল ব্যবসার স্থানীয় বড় আড়তদার প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ছোটন রায়। বাড়ি কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের বাঙ্গালপাড়ায়। মোকামের সুদিনে হাওর ছেড়ে তিনি ভৈরবে ধান–চালের ব্যবসা খুলে বসেন। অন্যবার এমন সময়ে ব্যস্ততায় কথা বলার সুযোগ পান না। অথচ এবার গদিতে অলস সময় পার করছেন। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সময়ে হিসাবের খাতাই খোলা হয়নি। ছোটন রায় বলেন, ‘মোকামে ধানের এমন আকাল আর দেখিনি। এমন পরিস্থিতি থাকলে মোকামের অবশিষ্ট জৌলুশও বিলীন হয়ে যাবে।’

ধানের আকালের কারণ জানাতে গিয়ে আড়তদারেরা তিনটি বিষয় সামনে আনেন। তাঁদের মতে, প্রথমত ভৈরব মোকাম হাওরে উৎপাদিত ধাননির্ভর। সময়টি এখন ব্রি-২৮ ধানের। এবার নানা রোগে হাওরে ব্রি-২৮ ধান মারা পড়েছে। এ কারণে যেকোনো বছরের তুলনায় এবার আমদানি কম। দ্বিতীয়ত, ভৈরবে মিলের সংখ্যা কমে আসা। তিন নম্বর কারণ হিসেবে আড়তদারেরা দেখছেন ব্যাপারীদের ওপর কৃষকদের আস্থা কমে যাওয়া। প্রযুক্তির কল্যাণে কৃষকদের একটি অংশ এখন মিলারদের কাছে সরাসরি ধান পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে ব্যাপারীরা প্রত্যাশিত ধান পাচ্ছেন না। ব্যাপারীরা ধান না পাওয়ায় আড়তদারদের বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

গতকাল দুপুরে মোকামে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি নৌকা থেকে ধান নামানো হচ্ছে। নৌকা তিনটি এসেছে হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ থেকে। ঘাটে মজুত বস্তার সংখ্যা শতাধিক। ক্রেতা হাতে গোনা। কথা হয় মঙ্গল মাঝির সঙ্গে। ভোরে ১ হাজার ১০০ মণ ধান নিয়ে আজমিরিগঞ্জ থেকে তাঁর নৌকাটি ছয় ঘণ্টা নদীপথ পাড়ি দিয়ে ভৈরব ঘাটে পৌঁছায়। মঙ্গল মাঝি বলেন, ‘বৈশাখ শুরু হওয়ার পর থেকে ধান আনা–নেওয়া করতে করতে ভাত খাওয়ার সময় পাইতাম না। আর অহন ঘুমাইয়াও দিন শেষ করতে পারি না। বেশ কিছুদিন বিরতির পর আজ তিনি ধান নিয়ে আসতে পেরেছি।’ একই স্থান থেকে আসা আলতাফ মাঝি বলেন, ‘হাওরের মানুষের মধ্যে ব্রি-২৮ প্রীতি আছে। ঝুঁকি থাকার পরও ব্রি–২৮ করতেই যেন যত আনন্দ। এবার ধরা খাওয়ায় ধানের দেশে ধান নাই। ফলে আমরা ধান পাচ্ছি না। আমরা না পেলে মোকামেও ধান আমদানি বাড়ার কোনো সুযোগ নাই।’

এবার ভৈরব মোকামে নতুন ধানের আমদানি শুরু হয় ২৩ চৈত্র থেকে। প্রথম থেকে আগের যেকোনো বছরের তুলনায় আমদানি ছিল কম। এখন দিন যাচ্ছে আমদানি কমে আসছে। আমদানি না থাকায় মোকামের আড়তদারের সংখ্যাও এবার কম। শুক্রবার ভৈরবে আসা ধানের মধ্যে ৮০ ভাগই ছিল হাইব্রিড মোটা। এই ধান বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ৬৯০ থেকে ৭০০ টাকা। ব্রি–২৮ ধানের দর ৮০০ টাকা। চার দিনের ব্যবধানে দুই জাতের ধানের দর মণপ্রতি বেড়েছে ৫০ টাকা। আমদানি না থাকায় সবচেয়ে অলস সময় পার করছেন ধানকাটা শ্রমিকেরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন