বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরিফ বিল্লাহর সৌদিপ্রবাসী বাবা জহিরুল হক ভূঁইয়ার হাতে চেকটি তুলে দেন গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ এ বি এম বায়েজিদ হোসাইন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন কুতুবী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লায়ন মো. মহিউদ্দিন খোকন প্রমুখ।

নিহত আরিফের বাবা জহিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘২৭ আগস্ট সৌদি আরবের সময় বিকেল চারটায় নৌ দুর্ঘটনার খবর পাই। তখনো জানতাম না, আমাদের আদরের ধন এই নৌকায় ছিল। এভাবে আমাদের আশার প্রদীপ নিভে যাবে, মানতে পারছি না।’

২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার তিতাস নদের লইস্কা বিলে নৌকাডুবিতে ২৩ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে মেডিকেলশিক্ষার্থী আরিফও একজন। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাল্কহেডের মালিক, মাঝি, সহযোগীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহতের চাচা ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ‘দুই মাস আগে রাজধানীর গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভাতিজা আরিফ বিল্লাহকে চিকিৎসক বানানোর স্বপ্ন ও আশা নিয়ে ১৮ লাখ টাকা ফি দিয়ে ভর্তি করানো হয়। আমাদের একটাই আশা ছিল, ভাতিজা চিকিৎসক হবে। ভাতিজা বেঁচে থাকলে আরও ৫০ লাখ টাকা খরচ করতাম। এতে কোনো দুঃখও থাকত না। এ নৌ দুর্ঘটনা আমাদের সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল।’

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরিফের বাবা ও দুই চাচা সৌদি আরবের দাম্মাম নগরে ব্যবসা করেন। মা–বাবা সৌদিপ্রবাসী হওয়ায় একটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে আরিফের লাশ রাখা হয়। সৌদিপ্রবাসী মা–বাবা দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সকাল ১০টায় বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর নৌকাঘাট-সংলগ্ন স্থানীয় মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আরিফের জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে গ্রামের কবরে তাঁকে দাফন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, নৌকা ডুবে যাওয়ার সময় আরিফ নৌকা থেকে লাফ দিয়ে পানিতে পড়েন। আরিফকে জাপটে ধরে অনেকেই বাঁচতে চেয়েছিলেন। শেষে তাঁর জীবনই যায় সবার আগে।

নিহত আরিফের বাবা জহিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ও আশা ছিল। ছেলেকে চিকিৎসক বানানোর জন্য শ্রম–ঘাম মাটি করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলাম। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের জন্য ছেলেকে রাজধানীর গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলাম। ২৭ আগস্ট সৌদি আরবের সময় বিকেল চারটায় নৌ দুর্ঘটনার খবর পাই। দুর্ঘটনার খবরটি ফেসবুকেও শেয়ার করি। আমার সঙ্গে আমার স্ত্রীও সৌদি আরবে ছিলেন। তখনো জানতাম না, আমাদের আদরের ধন এই নৌকায় ছিল। পরে নিকট স্বজনদের মাধ্যমে নৌ দুর্ঘটনায় নিজের সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ পাই। এভাবে আমাদের আশার প্রদীপ নিভে যাবে, মানতে পারছি না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন