বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাথী জানান, হাসপাতালে থাকা অবস্থায় সারাক্ষণই ভাইয়ের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন সেলিনা। বুকে আশা পুষে রেখেছিলেন, সুস্থ ভাইকে নিয়ে আবার বাড়ি ফিরবেন। নারায়ণগঞ্জ শহরে আর ফিরে যাবেন না, চলে যাবেন চাঁদপুর উত্তর মতলবের পিতৃভিটায়। সে আশা বুকেই রয়ে গেছে সেলিনার। তাঁর ভাই বাড়ি ফিরেছেন ঠিকই। তবে লাশ হয়ে।


আজ দুপুরে তল্লা বড় জামে মসজিদে জানাজা শেষে নগরের মাসদাইর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে শামীম হাসানকে।

ভাইকে শেষবারের মতো দেখার জন্য জানাজাস্থলে ছুটে এসেছিলেন সেলিনা। মাটিতে বসে আহাজারি করছিলেন। বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন আর স্মৃতি হাতড়ে বলছিলেন, কেমন করে কোলেপিঠে বড় করেছিলেন ছোট ভাইকে। সাত বছর আগে মায়ের মৃত্যুর পর কোনো দিন নামাজ আদায় বন্ধ রাখেননি ভাই। সেই ভাইকে মরতে হলো সিজদাহ অবস্থায় আগুনে পুড়ে।

জানাজাস্থল থেকে কিছুদূরে দাঁড়িয়ে শামীমের দুই মেয়ে মৌসুমী (২৬) ও সুমাইয়া (১৯) আকুতি জানাচ্ছিলেন শেষবারের জন্য বাবার লাশ দেখতে। তা আর হয়নি। বাবার লাশবাহী গাড়িটিকে স্পর্শ করেছিলেন সামান্য সময়ের জন্য।

বাইতুস সালাত জামে মসজিদের ১০ গজের মধ্যেই শামীম হাসানের চারতলা নির্মাণাধীন বাড়ি। আজ দুপুরে বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, হৃদয়বিদারক দৃশ্য। বড় মেয়ে মৌসুমী আর কাঁদতে পারছেন না। থেমে থেমে চিৎকার করে উঠছেন সুমাইয়া। শামীমের একমাত্র ছেলে শাহীন (২২) গেছেন বাবার লাশ দাফন করতে। শামীমের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৪৫) জায়নামাজে বসে দুই হাত তুলে প্রার্থণা করছিলেন। সেলিনা বেগম তখনো বিলাপ করে যাচ্ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন