default-image

যশোরের বেনাপোলে এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করায় ছাত্রীর মামাকে ছুরিকাঘাতে জখম করেছে বখাটেরা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বেনাপোল বন্দর থানার ভবারবেড় গ্রামের পাশে বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আহত ব্যক্তির নাম রকি শিকদার (২১)। তিনি যশোরের বেনাপোল বন্দর থানার ভবারবেড় গ্রামের রবিউল শিকদারের ছেলে। সম্পর্কে তিনি ওই স্কুলছাত্রীর মামা। তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রকি শিকদারের মা মিরা বেগম বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে বুধবার রাতে বেনাপোল বন্দর থানায় একটি মামলা করেছেন। এরপরই পুলিশ অভিযুক্ত ইয়ামিন হোসেনকে(২০) গ্রেপ্তার করেছে। ইয়ামিন হোসেন বেনাপোল বন্দর থানার বড় আঁচড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম খাঁর ছেলে। মামলার অপর দুই আসামি হলেন বেনাপোল বন্দর থানার ভবারবেড় গ্রামের শাহিন হোসেনের ছেলে সৌরভ হোসেন (২০) এবং একই গ্রামের বাবলা মিয়ার ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (১৯)।

বেনাপোল বন্দর থানার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ইয়ামিন হোসেন প্রায় উত্ত্যক্ত করতেন। এ ঘটনা জানার পর স্কুলছাত্রীর মামা রকি শিকদার বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বেনাপোল বন্দর থানার ভবারবেড় গ্রামের পাশে বাইপাস সড়কে ইয়ামিন হোসেনকে পেয়ে তাঁকে তাঁর ভাগনিকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করেন।
বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বেনাপোল বন্দর থানার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ইয়ামিন হোসেন প্রায় উত্ত্যক্ত করতেন। ওই স্কুলছাত্রী বাড়িতে এসে এ ঘটনা জানায়। এ ঘটনা জানার পর স্কুলছাত্রীর মামা রকি শিকদার বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বেনাপোল বন্দর থানার ভবারবেড় গ্রামের পাশে বাইপাস সড়কে ইয়ামিন হোসেনকে পেয়ে তাঁকে তাঁর ভাগনিকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ইয়ামিন হোসেন তাঁর দুই সহযোগী সৌরভ হোসেন ও সাজ্জাদ হোসেনের সহযোগিতায় তাঁর কাছে থাকা ছুরি দিয়ে রকি শিকদারের পেটে আঘাত করে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন রকিকে উদ্ধার করে যশোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ইয়ামিন হোসেনকে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেনাপোল বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌফিকুর রহমান বলেন, অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বেনাপোল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন খান দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি ইয়ামিন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন