বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
গত বৃহস্পতিবার ভাঙনকবলিত জায়গায় ৩০০ বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। গতকাল আরও ৬০০ বস্তার বালু ও ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে।
রাজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী, সিলেট সিটি করপোরেশন

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছুটিতে যুক্তরাজ্যে থাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ভাঙনের খবর পেয়ে প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তাদের দ্রুত অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে বাঁশ দিয়ে পাইলিং করে সেখানে বালু ও ইটের খোয়ার বস্তা ফেলার কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিন দেখা গেছে, ভাঙনকবলিত স্থানে বাঁশ দিয়ে আড় বাঁধা হয়েছে। অন্তত ৫০ জন শ্রমিক বাঁশের পাইলিংয়ের ভেতরে বালু ও ইটের খোয়ার বস্তা ফেলছেন। কাজ তদারকি করছেন সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তারা। এদিকে ভাঙনের মুখে থাকা পাঁচটি পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যে আতঙ্কে ঘর ছেড়েছেন। অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হলে তাঁরা বাড়িতে ফিরবেন বলে জানা গেছে।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজি উদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী যুক্তরাজ্যে থেকেও সরাসরি কাজের তদারকি করছেন। গত বৃহস্পতিবার ভাঙনকবলিত জায়গায় ৩০০ বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। গতকাল আরও ৬০০ বস্তার বালু ও ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। শনিবারের মধ্যে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হবে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ীভাবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেবে। আপাতত অস্থায়ী এ উদ্যোগ নেওয়া হলেও ঝুঁকি এড়াতে বর্ষা মৌসুমজুড়ে কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সুরমা নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন তীব্র হয়ে দেখা দেয়। সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী খবর পেয়ে ভাঙন ঠেকাতে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। সেই অনুযায়ী ভাঙন ঠেকাতে কাজ চলছে।

সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা জানিয়েছে, নদীতে এখন প্রচুর পানি থাকায় ভাঙনকবলিত জায়গাটি মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। সাময়িকভাবে নিরাপত্তার জন্য যা প্রয়োজন, সবটুকু করা হচ্ছে। পানি কমলে স্থায়ীভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমানকে জানিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানে বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মো. জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাঙন আতঙ্কে সেখানকার মানুষ দিন পার করছেন। বিষয়টি শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সরেজমিন দেখে জেলা প্রশাসক ও পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। নদীভাঙন রোধে তাঁরা যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’

ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় টুকেরবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাফছা মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মুকিত, সহসাধারণ সম্পাদক মো. আলামিন, প্রচার সম্পাদক সিরাজুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন, মকবুল হোসেন, মঞ্জু হোসেন, কবির মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন