ভাঙা তর্জনীর পাশেই ফুটেছে হাসিমুখ
কুষ্টিয়া শহরের পাঁচরাস্তা মোড়ে বঙ্গবন্ধুর তিনটি ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন হাত উঁচু করে বঙ্গবন্ধুর অভিবাদন জানানোর আদল পেয়েছে দ্বিতীয় ভাস্কর্যটি। গতকাল মঙ্গলবার এই ভাস্কর্যের অভিবাদনের উঁচু হাত ও হাসিমুখ স্পষ্ট হয়েছে।
ভাস্কর্যটি এমন জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে কিছুদিন আগে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আদলে তৈরি করা একটি ভাস্কর্যের কিছু অংশ ভাঙচুর করা হয়। ভাঙা হয় সেই ভাস্কর্যের তর্জনী উঁচু করে রাখা হাতের কবজি। এখন ভাস্কর্যটির পাশেই ফুটে উঠেছে হাত উঁচু করে থাকা হাসিমুখের বঙ্গবন্ধুর অবয়ব।
ভাস্কর্যটি নির্মাণ করছেন ভাস্কর জামাল মাহবুব। গতকাল বিকেলে পাঁচরাস্তার মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ভাস্কর্য নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। জামাল মাহবুব বললেন, বঙ্গবন্ধুর তর্জনীর দিকে তাকালে দেশপ্রেম জেগে ওঠে। আর তাঁর অভিবাদন জানানোর হাত মনে সাহস জোগায়। নতুন বছরের প্রথম দিনেই পাঁচরাস্তা মোড়ে নির্মাণাধীন তিনটি ভাস্কর্যই কুষ্টিয়া পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান জামাল মাহবুব।
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কারশেদ আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু সাহস জুগিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই মহান নেতার হাসিমুখের ভাস্কর্য কুষ্টিয়াবাসীকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। নতুন প্রজন্মও এই ভাস্কর্য দেখে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হবে।
কুষ্টিয়া পৌরসভার অর্থায়নে পাঁচরাস্তার মোড়ে তিনটি প্রধান সড়কের দিকে মুখ করে বঙ্গবন্ধুর তিনটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে জাতীয় চার নেতার ম্যুরালও থাকবে। শহরের মজমপুর এলাকার দিকে মুখ করা ৭ মার্চে ভাষণের ভাস্কর্যটির কিছু অংশ ৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এ নিয়ে সারা দেশেই প্রতিবাদ জানানো হয়।