default-image

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করায় এক কিশোরী (১৪) ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রামের প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। প্রভাবশালী ওই ব্যক্তিরা একাধিকবার ওই কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে চড়াও হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।

ধর্ষণের ঘটনাটি গত ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাতের বলে জানা গেছে। উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামের ওই ধর্ষণের ঘটনাটি গ্রাম্য মাতবরেরা নিজেরা সমাধান করে দেবেন বলে জানালে তখন মামলা করেনি কিশোরীর পরিবার। দেড় মাস পেরিয়েও ঘটনার সুরাহা না হওয়ায় গতকাল বুধবার রাতে কিশোরী নিজে বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে।

ওই কিশোরীর বাবা অভিযোগ করেন, গতকাল থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করায় তাঁরা একটি প্রভাবশালী মহলের চাপে এলাকায় যেতে পারছেন না। তিনি বর্তমানে তাঁর চার মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানান।
বিজ্ঞাপন

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরীর চাচি রুপালি বেগমের (২৭) সহায়তায় ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত একটা থেকে দুইটার মধ্যে তাকে ধর্ষণ করেন আলগী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দা ইজিবাইকচালক সাব্বির মুন্সী (১৮)। এ কাজে সাব্বিরকে সহযোগিতা করেন তাঁর বন্ধু গুনপালদী গ্রামের ইব্রাহিম শেখ (১৮)। উল্লিখিত তিনজনকেই এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।

ওই কিশোরীর বাবা অভিযোগ করেন, গতকাল থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করায় তাঁরা একটি প্রভাবশালী মহলের চাপে এলাকায় যেতে পারছেন না। তিনি বর্তমানে তাঁর চার মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানান।
ওই কিশোরীর বাবা আরও অভিযোগ করেন, গ্রামের বাড়িতে বর্তমানে তাঁর বৃদ্ধ মা–বাবা রয়েছেন। মামলার খবর শোনার পর প্রভাবশালী ওই মহল তাঁর বাবা সিদ্দিক মিয়াকে (৬৮) মারধর করেছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেও তিনি প্রতিকার পাননি।

অভিযোগ পাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে জেনেছি বাদীর দাদাকে মারধরের অভিযোগ সত্য নয়। ওই বৃদ্ধের গায়ে হাত দেওয়া হয়নি। রাতে এশার নামাজ শেষে মসজিদের মধ্যে এ জাতীয় আলাপ তোলায় তাঁকে ধমক দেওয়া হয়েছে মাত্র। বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকিও দেয়নি কেউ। তারা নিজ থেকে ভয় পেয়ে এলাকার বাইরে অবস্থান করছে।
সফিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ভাঙ্গা থানা

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শওকত হোসেন বলেন, তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আগামী শনিবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ওই কিশোরীকে ফরিদপুর শহরের ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন বাদীর দাদাকে মারধরের অভিযোগ সত্য নয়। ওই বৃদ্ধের গায়ে হাত দেওয়া হয়নি। রাতে এশার নামাজ শেষে মসজিদের মধ্যে এ জাতীয় আলাপ তোলায় তাঁকে ধমক দেওয়া হয়েছে মাত্র। ওসি বলেন, বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকিও দেয়নি কেউ। তারা নিজ থেকে ভয় পেয়ে এলাকার বাইরে অবস্থান করছে। তাদের বাড়িতে আনার চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0