ভাঙ্গায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষ

ফরিদপুর জেলার মানচিত্র

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের ঘারুয়া গ্রামে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। শুরুতে এ সংঘর্ষ ঘারুয়া গ্রামবাসীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে পাশের চৌকিঘাটা গ্রামের লোকজনও যুক্ত হন। দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।

এ সময় তিনটি বাড়ি ও দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, উত্তেজনা থামাতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘারুয়া ও চৌকিঘাটা গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন যাবৎ উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ঘারুয়া গ্রামের রমজান মাতুব্বরের ছেলে সজীব মাতুব্বরের (১৮) সঙ্গে একই গ্রামের চুন্নু মাতুব্বরের ছেলে ইমন মাতুব্বরের (১৯) হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রমজান মাতুব্বর তাঁর ছেলের পক্ষ নিয়ে ইমন মাতুব্বরকে মারধর করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা করতে চান। কিন্তু আজ সকাল আটটার দিকে দুই পক্ষের কয়েক শ লোক ঘারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এ সময় ঘারুয়া বাজারের পাশে মাজেদ ফকির, কাদের মুন্সী ও সৈয়দ আলী মুন্সীর বাড়ি এবং ঘারুয়া বাজারের ওবায়দুর মোল্লা ও ফরহাদ মিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।

আজ সকাল আটটার দিকে দুই পক্ষের কয়েক শ লোক ঘারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।

ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মনসুর আলী মুন্সী বলেন, সিগারেটের লাইটার চাওয়াকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, সংঘর্ষের জন্য মাইকিং করে লোক জড়ো করা হয়।

ঘারুয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সফিউদ্দিন মোল্লা বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে সালিস করে এ সংকট দ্রুত মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কাল বৃহস্পতিবার এ সালিস হওয়ার কথা।

আলগীর সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা

এদিকে গতকাল সকালে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বালিয়াচরা ও সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। এ মামলার বাদী হয়েছেন ভাঙ্গা থানার এসআই মাসুদ আলম।

আরও পড়ুন

এসআই মাসুদ আলম জানান, গতকাল আলগী ইউনিয়নে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে একজন এসআই, দুজন কনস্টেবলসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। এ মামলায় আসামি হিসেবে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা বহু ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আসামি গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। তবে আজ দুপুর পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।