বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাংসদ নিক্সন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এঁরা এত দিন আমার পাশে থাইকা চুরি করতে পারেন নাই। এ জন্য বড় চোরের কাছে গেছেন।’ কাজী জাফরউল্যাহকে উদ্দেশ করে যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, ‘আপনি দুইবার হারছেন। আপনি মানুষ চেনেন না। এলাকার মানুষের মন বোঝেন না। যে চোর যে মাতালদের আমি খেদাইয়া দিছি সেই চোর-মাতালদের সঙ্গে নিয়া আইছেন।’

নিক্সন আরও বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ অফিস দখল করব—এ কথা বলি নাই। আমি বলেছি, ৯ তারিখে আমি দিনেরবেলায় অফিসে যাব। আমার এ কথায় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা আজ ফরিদপুর জেলা সদর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ভাড়া কইরা লোক আনছেন। ওই অফিসে (উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়) যাইতে আমার ভাড়া কইরা লোক আনতে হয় না। আমি ভাঙ্গার জনগণের রক্ত নিয়া খেলতে চাই না। আমি চাই নাই লাশ পড়ুক। লাশ পড়লে জাফরউল্যাহ, ফাইজুররা নেতা হবেন। আড়াই বছর পর পচা মাল নিয়া উনি এলাকায় আইসা ভাঙ্গায় রক্তপাত করাতে চান। আমি রক্তপাত চাই না।’

দলীয় কার্যালয়ে না যাওয়ার যুক্তি তুলে ধরে এই সাংসদ বলেন, ‘আমি আমার আশপাশের সবার সঙ্গে পরামর্শ করে পার্টি অফিসে যাই নাই। অথচ পার্টি অফিসে যাওয়ার অধিকার জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দিয়েছেন। কেননা, আমি যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। আমার চ্যালেঞ্জ পার্টি অফিস দখল নয়, আমার চ্যালেঞ্জ তিন থানার উন্নয়ন। এলাকার উন্নয়ন না করতে পারলে জনগণ আমাকে বিদায় করে দেবে। জনগণ বিদায় না করলে আমাকে কেউ বিদায় করতে পারবে না। আগামীতে শেখ হাসিনার নৌকা প্রতীক নিয়ে এসে নির্বাচিত হয়ে এই তিন থানার উন্নয়ন অব্যাহত রাখব।’

ভাঙ্গা পৌরসভার মেয়র আবু ফয়েজ মো. রেজার সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম হাবিবুর রহমান, চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাওসার, সদরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান প্রমুখ।

default-image

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগে কার্যালয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য বিপুল ঘোষ সাংসদ নিক্সনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি কিন্তু কম গাইলাইতে পারি না। আমার মুখ ছুটায়েন না। শেখ হাসিনাকে বলব, একে কেন যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত করলেন।’

সাংসদ নিক্সনের বাবার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিপুল ঘোষ বলেন, ‘ইলিয়াস সাহেব অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর ছেলে হয়ে এমন অশ্লীল ভাষায় বক্তব্য কীভাবে দেন। আপনারে বলব, ফরিদপুর নিয়া নাক গলায়েন না। ফরিদপুরে আপনার চেয়ে অনেক বড় পাগল আছে।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুর রহমান ওরফে মিরন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঝর্ণা হাসান।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সাংসদ কাজী জাফরউল্যাহ ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সভা করেন। সভার শুরুতে ওই অফিসে টাঙানো সাংসদ নিক্সনের ছবি সরিয়ে কাজী জাফরউল্যাহর ছবি টাঙানো হয়। এর এক বছর আগে নিক্সন সমর্থকেরা ওই কার্যালয় থেকে কাজী জাফরউল্যাহর ছবি নামিয়ে নিক্সনের ছবি টাঙিয়েছিলেন।

এরপর ১ এপ্রিল দুপুরে সাংসদ নিক্সন ভাঙ্গা কোর্ট পাড় এলাকায় যুবলীগের একটি কার্যালয় উদ্বোধন করেন। ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিক্সন বলেছিলেন, ‘আমি রাতের আঁধারে নয়, দিনের আলোতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যাব, সভা করব।’

ওই দিন তিনি সভার তারিখ নির্ধারণ করেন ৯ এপ্রিল। বলা হয়েছিল, সভায় ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগসহ এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
এরপর জেলা আওয়ামী লীগ ভাঙ্গায় দলীয় কার্যালয়ে ৯ এপ্রিল বেলা ১১টায় আসন্ন জেলা সম্মেলন উপলক্ষে কর্মিসভার আহ্বান করে। পরে ৪ এপ্রিল নিক্সন সমর্থকেরা ভাঙ্গা ঈদগাহ ময়দানে সভা করার ঘোষণা দেন।

প্রসঙ্গত, সংসদ নির্বাচনে একসময় ফরিদপুর-৪ আসনটি কাজী জাফরউল্যাহ, তাঁর স্ত্রী ও চাচার নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০১৪ সালে ওই আসনে কাজী জাফরউল্যাহকে হারিয়ে মাদারীপুরের শিবচরের দত্তপাড়া এলাকার মুজিবর রহমান চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনের পর উপজেলা আওয়ামী লীগ কাজী জাফরউল্যাহপন্থী ও নিক্সনপন্থী—এই দুই দলে ভাগ হয়ে যায়। ২০১৮ সালেও কাজী জাফরউল্যাহকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন নিক্সন চৌধুরী। ২০২১ সালের নভেম্বরে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন