default-image

ভাবির করা নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম মাহবুব হোসাইনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ভিটি দাউদপুর গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আজ শুক্রবার তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন বলেন, মাহবুবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। তাঁদের সিদ্ধান্ত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাহবুবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মাহবুবের ভাবি মাস দুয়েক আগে মামলা করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এ মামলায় মাহবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
ছাত্রলীগের দাপট দেখিয়ে মাহবুব ও তাঁর ছোট ভাই আমার ঘরের দুটি কক্ষ দখলে নেন। শিশুসন্তান ও আমাকে নির্যাতন করেন। এর প্রতিবাদ করলে বড় বোনসহ আমাকে হুমকি দেন। ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ায় এলাকায় এসবের কোনো বিচার পাইনি।
রেহেনা আক্তার, মাহবুবের ভাবি ও মামলার বাদী

থানা-পুলিশ, এজাহার ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাহবুবের বড় ভাই জাকির হোসেন সৌদি আরব থাকেন। বাড়ি এলে প্রায় ছয় বছর আগে তাঁর সঙ্গে পাইকপাড়া গ্রামের রেহেনা আক্তারের বিয়ে হয়। এর এক বছর পর তাঁদের ছেলে হয়। জাকির আবার সৌদি আরব গেলে রেহেনা ছেলেকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। কিন্তু মাহবুব প্রায়ই রেহেনাকে নির্যাতন করতেন। রেহেনা ও তাঁর ছেলেকে শ্বশুরবাড়ির কোনো ঘরে থাকতে দিতেন না মাহবুব। এ কারণে রেহেনা বাবার বাড়ি থেকে ৩ লাখ টাকা এনে শ্বশুরবাড়িতে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। মাহবুব ও বিদেশ থেকে আসা তাঁর ছোট ভাই মোস্তফা হোসাইন ভবনটি দখল করে নেন।

গত ১ আগস্ট ঈদুল আজহার দিন রেহেনাকে মাহবুব, তাঁর মা, ছোট ভাই ও অন্য দুই ভাবি মারধরসহ নির্যাতন করেন। এ সময় তাঁরা রেহেনার শ্লীলতাহানি করেন ও ৫ বছরের ছেলেকেও মারধর করেন। পরে তাঁরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে রেহেনাকে বাড়ি থেকে বের করেন দেন। রেহেনা বাবার বাড়ি আশ্রয় নেন। এ ঘটনায় সৌদিপ্রবাসী রেহেনার স্বামী জাকির কোনো প্রতিবাদ করেননি। পরে ৪ আগস্ট রেহেনা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। এতে জাকির, মাহবুব, তাঁদের মা সমলা খাতুন, ছোট ভাই মোস্তফা হোসাইন, তাঁর স্ত্রী নূরানী বেগম, আরেক ভাই আজাদ হোসাইনের স্ত্রী আইরিন আক্তারকে আসামি করা হয়।

রেহেনা আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা নেই। বোনদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকার জন্য পাকা দালানঘর নির্মাণ শুরু করি। কিন্তু ছাত্রলীগের দাপট দেখিয়ে মাহবুব ও তাঁর ছোট ভাই আমার ঘরের দুটি কক্ষ দখলে নেন। শিশুসন্তান ও আমাকে নির্যাতন করেন। এর প্রতিবাদ করলে বড় বোনসহ আমাকে হুমকি দেন। ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ায় এলাকায় এসবের কোনো বিচার পাইনি।’

রেহেনার বড় বোন বলেন, ‘ছাত্রলীগের দাপটে মাহবুব বলেন, ‘“১০টি মার্ডার করলেও আমার মতো মাহবুবের কিছু করার ক্ষমতা কারও নেই।” আমরা এখন ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে আছি। ছাত্রলীগে মাহবুবের অনুসারীরা কখন কী করে বসেন, কে জানে।’

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য সমলা খাতুন ও মোস্তফা হোসাইনের মুঠোফোন একাধিকার কল করা হলেও তাঁরা ধরেননি। অন্য আসামিদের সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0