বিজ্ঞাপন

সভায় জানানো হয়, ভারতে বর্তমানে আটকে পড়া বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীর সংখ্যা এক হাজারের বেশি। যেহেতু তাঁরা তিনটি স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আসবেন, সে হিসাবে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা স্থলবন্দর দিয়ে তিন শতাধিক যাত্রী ঢুকতে পারেন। এ জন্য দর্শনা স্থলবন্দরকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ভারত থেকে আগতদের স্ক্রিনিংয়ের পাশাপাশি করোনা শনাক্ত করতে বন্দরেই অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হবে। পজিটিভদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ও কমিটির মনোনীত বাহনে সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে পাঠানো হবে।

নেগেটিভদের কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগত যাত্রীদের বহনের জন্য ১৪ আসনের মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় প্রত্যেকেরই প্রতিদিনই শরীরের তাপমাত্রাসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হবে।

কোয়ারেন্টিন সেন্টার হিসেবে প্রাথমিকভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল চত্বরের নার্সিং ইনস্টিটিউট ও দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে পর্যায়ক্রমে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে (পিটিআই) ব্যবহার করা হবে।

জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার সভায় বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে ভারতে আটকে পড়াদের অনেকেই আবাসিক হোটেলের খরচ বহন করতে পারবেন না। সে বিষয়টি হিসাব করেই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোয়ারেন্টিন সেন্টার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এত কিছুর পরও যদি আবাসন–সংকট দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রে আবাসিক হোটেলগুলো ব্যবহার করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের তাঁদের পছন্দের হোটেলে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে এবং তাঁদেরই খরচ বহন করতে হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলায় যাত্রী পরিবহনের জন্য মাইক্রোবাসের পাশাপাশি বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাত্রীদের প্রবেশের পর বন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে পাসপোর্ট পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে। আইসোলেশনে থাকা পজিটিভরা সুস্থ হলে এবং বাকিরা কোয়ারেন্টিন শেষে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ছাড়পত্রের পর পাসপোর্ট ফেরত নিয়ে বাড়ি যেতে পারবেন।

কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোয়ারেন্টিন সেন্টারে আনসার-পুলিশ সমন্বয়ে নিরাপত্তার পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীনকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) আবু রাসেল, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা আওলিয়ার রহমান, বিজিবির একজন প্রতিনিধি, আনসার ও ভিডিপির একজন প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আল আমিন ও চুয়াডাঙ্গা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈন উদ্দীন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন