default-image

ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া থেকে বাংলাদেশের রাজশাহীর গোদাগাড়ী পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটারের একটি নৌপথ শিগগিরই চালু হচ্ছে। ভারত থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য সম্ভাব্য নদীপথটি সোমবার পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক। পরে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে অনেক সম্ভাবনার কথা বলেন।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বেলা সোয়া ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই নৌপথ সরেজমিনে দেখেন। স্পিডবোটে তিনি পদ্মা নদীর ভারতীয় সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত যান। নৌপথ পরিদর্শন শেষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমডোর গোলাম সাদেক বলেন, ‘গোদাগাড়ী সীমান্ত দিয়ে নৌপথ চালু করলে দুই দেশই উপকৃত হবে। আমরা নদীর নাব্যতাসহ সবকিছু দেখে গেলাম। খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এই নৌপথ চালু করতে চাই।’

বিজ্ঞাপন

উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুহিদুল ইসলাম ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর কবির। ইউএনও প্রথম আলোকে বলেন, কী পণ্য পরিবহন করা হবে, তা কর্তৃপক্ষ পরে ঠিক করবে। এ ছাড়া এই পথে চোরাচালানের বিষয়ে নজরদারি বিষয়টিও পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।

এদিকে রাজশাহী থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটারের একটি নৌপথের অনুমোদন থাকলেও তা কার্যকর নেই। এখন নতুন পথটি সংক্ষিপ্ত করে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ থেকে মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দর পর্যন্ত পণ্য চলাচলের উদ্যোগ নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। এই পথের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। অনেকটা আড়াআড়িভাবে পদ্মা নদী পাড়ি দেবে পণ্যবাহী নৌযান। শুষ্ক মৌসুমে প্রতি নৌযানে ২০০-৩০০ টন পণ্য পরিবহন করা যাবে। ইতিমধ্যে গোদাগাড়ী এলাকায় একটি শুল্ক কার্যালয় চালুর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় বড় প্রকল্পে মুর্শিদাবাদের ‘পাকুর পাথর’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি বেশ উন্নতমানের পাথর। এখন সড়কপথে পাথর আমদানি করতে খরচ বেশি পড়ছে। গোদাগাড়ী-মায়া নৌপথটি মূলত পাকুর পাথর আমদানিতে বেশি ব্যবহার হতে পারে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন