বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা এসে কলকাতায় জড়ো হচ্ছেন। সেখানে দালালেরা রোহিঙ্গাদের পৌঁছে দেয় সিলেট-মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তের কাছে। পরে পাঁচ থেকে ছয়জনের দলে বিভক্ত হয়ে রোহিঙ্গাদের কাঁটাতারের বেড়ার নিচ দিয়ে বাংলাদেশ ঠেলে দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২০-২৫ দিনে ভারত থেকে পালিয়ে উখিয়া ও টেকনাফে অন্তত ৮০০ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ জনকে একটি ট্রানজিট কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এর বাইরেও প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গা বিভিন্ন কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন পাহাড়ে রোহিঙ্গাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

আশ্রয়শিবিরে নতুন করে আসা রোহিঙ্গারা জানান, ভারতে থেকে আরও অন্তত ৩ হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ অনুপ্রবেশের চেষ্টায় আছেন। তাঁরা ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন। এর মধ্যে অনেকের কাছেই ইউএনএইচসিআরের শরণার্থী কার্ড আছে।

গত সোমবার বিকেলে আমিনের সঙ্গে কথা হয়। আমিন বলেন, ঈদের তিন দিন আগে তিনি পরিবার নিয়ে ভারতের কোলকাতা থেকে দালালের মাধ্যমে সিলেট সীমান্তে পৌঁছান। রাতে শ্রীমঙ্গলের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েন। এরপর ট্রেন, বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে ৪ মে সকালে কক্সবাজার শহরে পৌঁছান। ৫ মে সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পৌঁছান উখিয়ার আশ্রয়শিবিরে।

ভারত থেকে পালিয়ে আসা পাঁচ থেকে ছয়জন রোহিঙ্গা বলেন, লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সেখানে বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশের ধরপাকড় শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গারা বিভিন্নভাবে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ধড়পাকড়-নির্যাতন দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়ায় শত শত রোহিঙ্গা পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে আসছেন। গত ২০-২৫ দিনে প্রায় দেড় হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ অনুপ্রবেশ করেছে বলে তাঁরা দাবি করেন। এর মধ্যে উখিয়া-টেকনাফের আশ্রয়শিবিরসহ কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন।

রোহিঙ্গারা বলেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা এসে কলকাতায় জড়ো হচ্ছেন। সেখানে দালালেরা রোহিঙ্গাদের পৌঁছে দেয় সিলেট-মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তের কাছে। পরে পাঁচ থেকে ছয়জনের দলে বিভক্ত হয়ে রোহিঙ্গাদের কাঁটাতারের বেড়ার নিচ দিয়ে বাংলাদেশ ঠেলে দেওয়া হয়। এরপর বাংলাদেশি দালালেরা রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারে পৌঁছে দেয়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অনুবেশের সময় দালালদের হাতে ওয়াকিটকি ও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে রোহিঙ্গারা দাবি করেন।

সরকারি বিধিবিধান মেনেই এসব রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এমনও হতে পারে, নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরের আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে।
মো. মামুনুর রশীদ, জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার

ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের খরচ সম্পর্কে রোহিঙ্গারা জানান, কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য জম্মু-কাশ্মীরের দালালদের ১০ বছরের বেশি রোহিঙ্গাদের মাথাপিছু ১৫ হাজার রুপি এবং ১০ বছরের নিচের শিশুদের মাথাপিছু ৫ হাজার রুপি দিতে হয়। কলকাতায় পৌঁছার পর রুপি পরিশোধ করতে হয়। এর পর বাংলাদেশে ঢোকার পর কক্সবাজার পৌঁছাতে বাংলাদেশের দালালদের মাথাপিছু ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়।

ভারতে থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের টেকনাফ ও উখিয়ায় আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন ১৪ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মো. নাঈমুল হক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত ২০ থেকে ২৫ দিনে প্রায় ৮০০ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঠাঁই পেয়েছে। অধিকাংশ রোহিঙ্গাকে জেলা পুলিশ কক্সবাজার শহর ও উখিয়া থেকে আটক করে ক্যাম্পে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে আসা রোহিঙ্গারাও আছেন। কয়েক শ রোহিঙ্গাকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের (ইনচার্জের) তত্ত্বাধানে ট্রানজিট কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

ট্রানজিট কেন্দ্রে অবস্থানকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা জানতে চাইলে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা প্রথম আলোকে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন না।

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি বিধিবিধান মেনেই এসব রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এমনও হতে পারে, নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরের আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে।

৪ মে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ ৪৫৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে। এর মধ্যে ৩৪৫ জন পুরুষ, ৪১ জন নারী ও ৬৭ জন শিশু। পরের দিন ৫ মে ৫০ জন, ৬ মে ২৮৭ ও ৭ মে ২৫২ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে জেলা পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের উল্লেখযোগ্য অংশ ভারত থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা বলে জানা গেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন