default-image

স্বামী ইমরান খান (২৮) বরমী ইউনিয়নের বরমী গ্রামের আহসান উল্লাহ খানের ছেলে। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শেষ সেমিস্টারের ছাত্র। মা–বাবার পাঁচ সন্তানের মধ্যে ইমরান সবার ছোট। বিয়ের পর লিডিয়ার নামের সঙ্গে খান যুক্ত করে নাম রাখা হয় লিডিয়া লোজা খান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের মেয়ে।

ইমরান খান প্রথম আলোকে বলেন, পরিচয় হওয়ার পর লিডিয়া লোজা নিজেই তাঁকে প্রেম ও পরে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এ বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠান লিডিয়া। তিনি অনুরোধ গ্রহণ করার পর বেশ কিছুদিন তাঁর সঙ্গে সাধারণ বন্ধু হিসেবে বার্তা বিনিময় হয়।

গত মার্চ মাসে লিডিয়া বাংলাদেশে ইমরানের বাড়িতে এসে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। সে উদ্দেশ্যে লিডিয়া টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশের হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে গ্রহণ করতে উপস্থিত ছিলেন ইমরান। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন বিভাগ বিভিন্ন কারণে তাঁকে আবারও টার্কিশ এয়ারলাইনসে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। লিডিয়া বাড়ি ফিরে যাননি। তিনি অন্য একটি ফ্লাইটে নেপাল পৌঁছান। এদিকে ইমরান বাংলাদেশ থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে উড়াল দেন। সেখানে পৌঁছে তাঁরা দুজন দেখা করেন। সেখানে এক মসজিদের ইমামের কাছে লিডিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। সেখানেই তাঁদের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর নেপাল থেকে লিডিয়া ফিরে যান আরিজোনা আর ইমরান ফিরে আসেন বাংলাদেশে। এর চার মাস পর লিডিয়া ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে গত রোববার দিবাগত রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। তাঁকে অভ্যর্থনা জানান ইমরান। পরে লিডিয়াকে নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী ইউনিয়নের বরমী গ্রামে নিজ বাড়িতে ওঠেন তিনি।

ইমরান খান বলেন, তাঁর বাবা নেই। মা ও বড় চার বোন আছেন। তাঁরা সবাই লিডিয়াকে স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিয়েছেন। সবার সঙ্গে লিডিয়া ভালো আচরণ করছেন। ইতিমধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে সব সদস্যের সঙ্গে। তিনি বলেন, আপাতত কিছুদিন লিডিয়া তাঁর বাড়িতে থাকবেন। এরপর নিজ দেশে ফিরে যাবেন। ইমরান বলেন, লিডিয়া তাঁকে আরিজোনা নিয়ে যেতে চান। সব ঠিক থাকলে তিনিও লিডিয়ার সঙ্গে পাড়ি জমাতে চান। তিনি সবার কাছে তাঁদের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

মার্কিন কন্যা লিডিয়ার শ্রীপুরে আসার বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশের লোকজন ভিনদেশী বউ দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করছেন। বরমী গ্রামের মো. মোস্তফা বলেন, আশপাশের লোকজন অনেকেই নতুন বউ দেখতে যাচ্ছেন। তবে ভাষা বুঝতে পারছেন না কেউ। স্বামী ইমরান ভাষান্তর করে সবাইকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। বরমীর বাসিন্দা আলামিন বলেন, ইমরানের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল অনেক দিন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়েছি। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন