শিক্ষকের এই আস্থার মর্যাদা রাখতে ভেবে ভেবে সমাধান বের করে ফেলতাম। আক্তারুজ্জামান স্যার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেন। আর আমাদের আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে উঠে যেত।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থেকে এইচএসসি—সব পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পেয়েছি। বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতে ভালো লাগত। কার্টুন দেখা ছিল পছন্দের। পড়াশোনার জন্য এসব ছেড়েছি। মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার তিন মাস আগে মুঠোফোন বন্ধ করে বাবার কাছে জমা রেখেছি। অর্থাৎ আমার সব ভালো লাগা বিসর্জন দিয়ে এ সাফল্য অর্জন করেছি।

আমি আবদুল্লাহ। বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার রাজারামপুর ব্যাঙডুবি মহল্লায়। আমার বাবা মো. মইদুল ইসলাম স্থানীয় একটি জামে মসজিদের ইমাম। মা ফারহানা ইয়াসমিন গৃহিণী। তাঁদের অনুপ্রেরণা ছাড়া আমার এ অর্জন সম্ভব হতো না।

রাজশাহী সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় মেসে থাকতাম। যখন মন খারাপ হতো, তখন বাইরে বের হয়ে শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে কথা বলতাম।

তাঁদের সঙ্গে গল্পে মনের কষ্ট দূর হয়ে যেত। তাঁদের জন্য কিছু একটা করার ইচ্ছা জাগত মনে। আবার যখন কোনো অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে হাসপাতালে যেতাম, তখন গরিব রোগীদের অসহায়ত্ব দেখে খুব কষ্ট পেতাম। মনে হতো, চিকিৎসক হতে পারলে তাঁদের জন্য ভালো কিছু করতে পারব।

মায়ের স্বপ্ন, আমি যেন চিকিৎসক হয়ে গরিবের সেবা করতে পারি। করোনা মহামারিকালে দেশে চিকিৎসকদের ভূমিকা আমাকে উৎসাহিত করেছে।

মেডিকেল কোচিংয়ে বিভিন্ন টেস্ট পরীক্ষায় ১৭-১৮ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে আমার অবস্থান ৩০০ থেকে ৪০০–এর মধ্যে থাকত। তখনই মনে আত্মবিশ্বাস জন্মেছিল, আমি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাব। কিন্তু কখনো ভাবিনি, সারা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় হব।

সময় ধরে বা রুটিনমাফিক লেখাপড়া করিনি কখনো। যখন মনে হয়েছে, তখনই পড়েছি। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছি। যা–ই পড়েছি, বুঝে পড়ার চেষ্টা করেছি। এ জন্য পড়া মনে গেঁথে থাকত। সাফল্যের এটাও বড় কারণ।

মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর অনেকেই খবর নিয়েছেন, অভিনন্দন জানিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন। এ আনন্দের অনুভূতি অন্যরকম। বলে বোঝাতে পারব না। আমি যেন একজন ভালো চিকিৎসক হতে পারি, এ জন্য সবার দোয়া চাই।

লেখক: আবদুল্লাহ, ঢাকা মেডিকেল কলেজের নবীন শিক্ষার্থী

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন