বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হারাগাছ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের তিন ‘বিদ্রোহী’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মাহফুজার রহমান বসুনিয়া (চশমা), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোজাহেদুর রহমান (ঘোড়া), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন (ঢোল)। দলীয় প্রতীকের বাইরে তিনজন প্রার্থী থাকায় নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। অস্বস্তিতে আছে আওয়ামী। সরেজমিনে এমনটাই জানা গেল।

মঙ্গলবার সকালে নির্বাচনের মাঠে কথা হয় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহফুজার রহমান বসুনিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনেও আমাকে দলীয় প্রতীক দেওয়া হয়নি। কিন্তু ভোট করেছি। মাত্র ২০০ ভোটের জন্য হেরে যাই। আমাকে এলাকার জনগণ ভালোবাসে বলেই এবারও নির্বাচন করছি।’

একই সঙ্গে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতীক না নিয়ে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করছেন দলের সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি নূরুল ইসলাম (মোটরসাইকেল)। নির্বাচনী এলাকা খানসামা হাটে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দিন দিন দলের প্রভাব কমে গেছে। তাই দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছি।’

হারাগাছ ইউনিয়নের সর্বত্র ঝুলছে পোস্টার। বাজার–হাটসহ সবখানেই নির্বাচনী হাওয়া। কে কার থেকে এগিয়ে আছেন—এমন আলোচনা আর জল্পনার যেন শেষ নেই। সেই সঙ্গে তর্ক-বিতর্কও চলছে। সকালে শীতের ঠান্ডা হাওয়ায় রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে ঠাকুরদাস বাজারে কয়েকজন গল্প করছিলেন। ভোট নিয়ে কিছু একটা জানতে চাইলে ব্যবসায়ী সোলেমান মিয়া (৩৮) বলেন, ‘এলাকাত যার গ্রহণযোগ্যতা আছে, এবার তাঁকেই হামরা ভোট দেমো। তবে মার্কা দেখি লাভ হবার নয়। ভালো মানুষ দেখা লাগবে।’

খানসামা বাজারে অনেকের সঙ্গে কথা হয়। তাঁদের মধ্যে সাংস্কৃতিক কর্মী সোহরাব হোসেন বলেন, ‘এবারে ভোটোত দুইটা দলীয় প্রতীক। এর মধ্যে একটা নৌকা, আরেকটা হাতপাখা। মজার বিষয় হলো লাঙল প্রতীকও নাই। সেই জন্য মনে হয়ছে মার্কা দিয়া ভোট গেলা যাবার নয়।’

ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি নূরুল ইসলাম স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণ প্রসঙ্গে বললেন, ‘দলের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। নেতা-কর্মীও কমে গেছে। এসব নানা কারণে দল থেকে নির্বাচন না করে স্বতন্ত্র হয়ে ভোট করছি।’

ইউনিয়নের হারাগাছ বাজার, নজিরদহ, ঠাকুরদাস বকুলতলাসহ আরও কিছু এলাকায় সরেজমিনে জানা যায়, নির্বাচন নিয়ে প্রচারণা আছে, আছে উত্তেজনাও। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হাঙ্গামা হয়নি।

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আছেন সাতজন। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইয়াসিন আলী, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে নাজমুল ইসলাম লড়ছেন। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী তিন প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহফুজার রহমান বসনিয়া, হারাগাছ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোজাহেদুর রহমান বসনিয়া, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজু আহমেদ (আনারস) ও স্বতন্ত্র নূরুল ইসলাম।

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সুমিয়ারা পারভীন বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর আছে। কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগও পাওয়া যায়নি। ২৮ নভেম্বর তৃতীয় দফায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন