ভালো সেবা দিচ্ছে খুলনার আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি

খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স
ছবি: প্রথম আলো

খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি ছয় মাস বসে থাকার পর বছরখানেক ধরে সচল অবস্থায় রোগীর সেবায় লাগছে। রোগীর স্বজনেরা অ্যাম্বুলেন্সটির সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে অ্যাম্বুলেন্সটি খুলনায় আসে। ২০২০ সালের ৩০ জুন এটা চালু হয়। গত প্রায় ১৩ মাসে ৭৫ জনের মতো রোগী অ্যাম্বুলেন্সটির সেবা পেয়েছেন। শেষ ২ মাসে ১২ জন রোগী এটি ব্যবহার করেছেন। তবে এটি বেশ ব্যয়বহুল। প্রতি কিলোমিটার ৫০ টাকা খরচ ধরা হয়। খুলনা থেকে আরিচা পথে ঢাকা যাওয়া-আসা ৬০০ কিলোমিটার এবং মাওয়া পথে ৪৪০ কিলোমিটার ধরে এর ভাড়া আসে ২২ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এর বাইরে চিকিৎসক বা টেকনিশিয়ান নেওয়ার জন্য আলাদা খরচ আছে।

খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গত ২৬ জুন ওই অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয় তামান্না রহমান নামের এক রোগীকে। তাঁর স্বজন মাহবুব রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা প্যাকেজ পদ্ধতিতে ওই অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছিলেন। সঙ্গে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না, একজন টেকনিশিয়ান ছিলেন। সব মিলিয়ে ৪২ হাজার টাকার প্যাকেজ ছিল। তবে সার্ভিস অনেক ভালো ছিল বলে জানান তিনি।

ঢাকার হাসপাতালে নেওয়ার আগে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে সবকিছু সেট করে দেওয়া থাকে। পথে কোনো ঝামেলা হলে আমরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে নিই।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আউয়াল

যশোরের নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা শ্রীকৃষ্ণ শর্মা (৬৫) যশোর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকে ১৭ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এই অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয়। তাঁর স্বজন পিংকি বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ওই অ্যাম্বুলেন্সে সব ধরনের সুবিধাই রয়েছে। চালকের সঙ্গে একজন টেকনিশিয়ান ছিলেন। তিনিই ভেতরে দেখভাল করেছেন। সেবার মান ভালো ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গতকাল রোববার দুপুরে শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ‘আইভেকো’ ব্র্যান্ডের অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের পার্কিং গ্যারেজে রাখা আছে। সম্পূর্ণ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সটির ভেতরে উন্নত প্রযুক্তির পালস অক্সিমিটার; ইসিজি যন্ত্র; সিরিঞ্জ পাম্প; নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য আলাদা ভেন্টিলেটর মেশিন; সাকার মেশিন; মনিটর; অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রয়েছে। ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের চারটি হাসপাতালেও আধুনিক এ ধরনের চারটি অ্যাম্বুলেন্স আছে।

সব মিলিয়ে ৪২ হাজার টাকার প্যাকেজ ছিল। তবে সার্ভিস অনেক ভালো ছিল।
তামান্না রহমান, রোগীর স্বজন

হাসপাতালের গাড়িচালক ও অ্যাম্বুলেন্সটির ইনচার্জ মো. গোলাম রসুল বলেন, ঘাটে পারাপারের ঝামেলা না থাকলে এই অ্যাম্বুলেন্সে পাঁচ ঘণ্টায় ঢাকার যেকোনো হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়া যায়। অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একজন টেকনিশিয়ান নেওয়া হয়। সেই টেকনিশিয়ান আবার সব সময় হাসপাতালেরই হন, এমনটা নয়। বাইরে থেকেও নেওয়া হয়। অনেকে অবশ্য বাইরে থেকে চিকিৎসকও নেন।

হাসপাতালেই কথা হয় আউয়াল হোসেন নামের একজনের সঙ্গে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিচয় দেওয়া আউয়াল অ্যাম্বুলেন্সটির সঙ্গে মাঝেমধ্যে যান। তিনি বলেন, ‘ঢাকার হাসপাতালে নেওয়ার আগে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে সবকিছু সেট করে দেওয়া থাকে। সঙ্গে পথে কী চিকিৎসা, কীভাবে চলবে, তারও নির্দেশনা থাকে। সেখানে যেভাবে বলা থাকে, সেভাবেই চলে। পথে কোনো ঝামেলা হলে আমরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে নিই।’

খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালে রাখা আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স
ছবি: প্রথম আলো

হাসপাতালের উপপরিচালক এস এম মোর্শেদ প্রথম আলোকে বলেন, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স চালুর ব্যাপারে হাসপাতালের আগের পরিচালক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি লিখে এটি চালুর জন্য গাইডলাইন (কী কী সাপোর্ট থাকবে, রোগীদের কী কী সুবিধা দেওয়া হবে, ভাড়া কত হবে) চেয়েছিলেন। তবে এটা নিয়ে নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। পরে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র স্থানীয়ভাবে একটি বোর্ড করে এটি চালু করার উদ্যোগ নিতে বলেন। তখন থেকে সেই নির্দেশনায় চলছে অ্যাম্বুলেন্সটি।