বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আদালতে চারজনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সম্রাট ফ্লাওয়ার মিলের আমদানির টাকা ছিনতাইয়ের জন্য পরিকল্পনা করে আসছিল ছিনতাইকারী চক্রটি।

এর আগে ৬ জানুয়ারি রাতে ছিনতাইকারী চক্রের সাত সদস্য সম্রাট মেজর ফ্লাওয়ার মিলের বিক্রয় প্রতিনিধি জসিম উদ্দিনসহ দুজন কর্মচারীর কাছ থেকে ১৪ লাখ ৮২ হাজার ২০০ টাকা ছিনতাই করেন। গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছিনতাইয়ের শিকার দুই কর্মচারী সংগৃহীত টাকা মিলের কার্যালয়ে জমা দিতে যাচ্ছিলেন।

গ্রেপ্তার সাতজন হলেন দেলোয়ার হোসেন (২০), ওমর ফারুক (২০), সুমন সিকদার (২১), সাকিব খান (২০), নূরুল ইসলাম (২১), মো. শিপন (২২) ও আল আমিন (২৫)। তাঁদের মধ্যে ওমর ফারুক, সাকিব খান, নুরুল ইসলাম ও মো. শিপন জবানবন্দি দিয়েছেন। দুই দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বাকি তিনজনকে।

ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) থোয়াই অং প্রু মারমা বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলার লোক হলেও সবাই একটি বিশেষ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য ও পরস্পরের বন্ধু। তাঁরা ফেনী শহরের রামপুর এলাকায় থাকতেন।

গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে দেলোয়ার ও ওমর ফারুক পেশাদার ছিনতাইকারী। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।
থোয়াই অং প্রু মারমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ফেনী

আদালতে চারজনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সম্রাট ফ্লাওয়ার মিলের আমদানির টাকা ছিনতাইয়ের জন্য পরিকল্পনা করে আসছিল ছিনতাইকারী চক্রটি। দলের সদস্য আল আমিন মিলের মালিকের বাসার একজন ভাড়াটে ও চক্রের তথ্যদাতা ছিলেন। মিলের টাকা কখন বিভিন্ন দোকান থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং কর্মচারীরা কখন মালিকের অফিসে জমা দেন, সে তথ্য চক্রের অন্য সদস্যদের দিতেন। এসব জেনেই ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তাঁরা অভিযানে নামেন। দুই কর্মচারী মিলের কার্যালয়ে টাকা জমা দিতে যাওয়ার সময় তাঁদের ওপর হামলা করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মামলা হলে ফেনী থানা-পুলিশ, ডিবি ও পুলিশের অপর একটি বিশেষ দল মাঠে নামে। ভিডিও ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রথমে ঢাকা থেকে দুজন, তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী থেকে পাঁচজনসহ মোট সাতজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় নগদ ৪ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা ও ছিনতাইয়ের টাকায় কেনা তিনটি নতুন মুঠোফোন, পাঁচটি ব্যাগ, ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত দুটি দা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থোয়াই অং প্রু মারমা বলেন, গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে দেলোয়ার ও ওমর ফারুক পেশাদার ছিনতাইকারী। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন