এর আগে গতকাল দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত ভিক্ষুক আবদুল জলিলসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সরিষাবাড়ী পৌর এলাকার বাউসী বাজার এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে আবদুল জলিল (৬০) ও প্রতিবেশী মজিবর রহমানের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের পাঁচজন গুরুতর আহত হন। লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেলের আঘাতে জলিল, তাঁর স্ত্রী লাইলী বেগম (৫৫), ছেলে আবু বক্কর (৩৫) ও ওয়াজকরণী (২৫) গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে প্রতিপক্ষ মজিবর রহমান বাদী হয়ে জলিলকে প্রধান আসামি করে পরিবারের ১৫ সদস্যের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মুন্তাজ আলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান জলিল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে। এ সময় টানাহেঁচড়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ মুখ চেপে ধরে ভিক্ষুকের পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে এসআই মুন্তাজ আলী বলেন, হাসপাতালে আসামি গ্রেপ্তার করতে গেলে একটু টানাহেঁচড়া হয়। আরেক এসআই আলতাফ হোসেন বলেন, ‘চাকুরি মানেই বদলি আছে।’

সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, পুলিশ আসামিদের হাসপাতাল থেকে টানাহেঁচড়া করে অমানবিকভাবে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে গেছে।

এ ঘটনার পর জামালপুরের পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় এরই মধ্যে চার এসআইকে বরখাস্ত ও দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিগগিরই এ ঘটনার তদন্ত শুরু করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন