default-image

ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ থাকার কারণে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও তাঁরা সময়মতো যেতে পারছেন না। যে কারণে শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আর্থিক ও মানসিকভাবেও তাঁরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

বুধবার সিলেটের দুটো প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা ভিসা ভিসা আবেদন কেন্দ্র জরুরি সেবার আওতায় এনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভিসা ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সহস্রাধিক শিক্ষার্থী বিপাকে পড়েছন। করোনাকালে বিভিন্ন দেশ থেকে সীমিত পরিসরে ভিসা সার্ভিস দিয়ে গেলেও বাংলাদেশে কোনো ধরনের নির্দেশনা ছাড়াই ৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ রয়েছে এই কার্যক্রম। ভিসা ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিদিন ভিসা ভিসা আবেদন কেন্দ্র থেকে হতাশ হয়ে ফিরছেন বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ে যেতে না পারলে ২৫ শতাংশ টিউশন ফি হারানোর শঙ্কাও রয়েছে অনেকের। বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে গিয়ে এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন সিলেটসহ সারা দেশের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও ডিগ্রি অর্জনের জন্য আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকের ভিসা হয়েছে, আবার অনেকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। করোনার সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধের কারণে ৫ এপ্রিল থেকে ভিসা ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা তাঁদের পাসপোর্ট ওই অফিস থেকে সংগ্রহ করতে পারছেন না। পাসপোর্ট না পাওয়ায় ভিসা পেয়েও অনেকে পছন্দের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও তাঁদের ডিপেন্ডেন্টের জন্য আলাদা আলাদা হেলথ ইনস্যুরেন্সের জন্য মূল্য পরিশোধ করতে হয়। সেশন মিস হলে নতুনভাবে এই হেলথ ইনস্যুরেন্সের টাকা পরিশোধ করতে হবে, যা লক্ষাধিক। এ ছাড়া আগের প্রদান করা ফি রিফান্ড হতে অর্ধবছর লেগে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, ‘করোনা সংক্রমণরোধে লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি আমরাও মানি। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেহেতু শপিং মল থেকে শুরু করে গার্মেন্টস পর্যন্ত খোলা রয়েছে, তাই জরুরি সেবার মতো সীমিত পরিসরে ভিসা ভিসা আবেদন কেন্দ্র খোলা রেখে সার্ভিস প্রদান করলে করোনার দুঃসময়ে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হব না।’

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন রাহিমা আক্তার চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি দিয়ে ভর্তি হয়েছি। ভিসা প্রাপ্তির জন্য পাসপোর্টসহ সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের টিউশন ফি ২৫ শতাংশ কেটে নেবে। এতে আমরা আর্থিকভাবে খুব ক্ষতিগ্রস্ত হব।’

বিজ্ঞাপন

রাহিমা আক্তার চৌধুরী আরও বলেন, ‘যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের অনেকেরই মেডিকেল পরীক্ষার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে, যা পুনরায় রি-ইস্যু করা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এ ছাড়া আমরা দুই–তিন মাস ধরে অনলাইনে ক্লাস করছি। নেটওয়ার্ক সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে আমরা ক্লাসে যুক্ত হতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের বারবার ই–মেইল করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে ভিসা ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় আমরা বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ব্যর্থ হচ্ছি। প্রতিদিন অনেকে অফিসে গিয়ে কাউকে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসছেন। লকডাউনের সময় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার বন্ধ করা হলেও সেবাগ্রহীতাদের ব্যাপারে তাঁরা কোনো নির্দেশনা দেয়নি। এ ছাড়া ভিসা ভিসা আবেদন কেন্দ্রে ৫ এপ্রিলের পর যাঁদের অ্যাপয়েনমেন্ট ছিল, তাঁরা দূর–দূরান্ত থেকে গিয়ে দেখেন, তাঁদের অ্যাপয়েনমেন্ট বাতিল হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে তাঁদের পূর্বে কিছু জানানো হয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী আবু তাহের, মোহাম্মদ ছামি, শাব্বির ইসলাম নাঈম, এনাম আহমদ, সাকিব আহমদ, মোহাম্মদ রাফি, মহসিন আহমদ, রোমান আহমদ ও নাহিদ আহমদ এ ব্যাপারে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন