default-image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষকসমাজের স্টিয়ারিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া ই-মেইল খুলে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। যে শিক্ষকের নামে ই–মেইলটি খোলা হয়েছে, তিনি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। যাঁর বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ করা হয়েছে, সেই শিক্ষক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

রাজশাহী নগরের মতিহার থানায় ২৪ ফেব্রুয়ারি মামলাটি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ও সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে একই থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন নির্বাচনের প্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এস এম সিদ্দিকুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষকসমাজের স্টিয়ারিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষকদের দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সাবেক উপাচার্য মিজানউদ্দিন প্যানেল থেকে আহ্বায়ক পদে দাঁড়ান অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম। বর্তমান উপাচার্যপন্থী প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অনুপ্রাণ বিভাগের অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। এই নির্বাচনের আগে সুলতান–উল–ইসলামকে নিয়ে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা জান্নাতুল ফেরদৌসের নামে ভুয়া ই-মেইল খুলে অপপ্রচার চালানো হয়।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ‘Zannatul Ferdous <zferdous 262 @gmail. com>’ নামের একটি ভুয়া ইমেইল আইডি খুলে প্রগতিশীল শিক্ষকসমাজের স্টিয়ারিং কমিটির নির্বাচনে জনৈক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সম্পর্কে কুৎসা রটনা করেছেন। ওই ই–মেইলটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষক তাঁদের স্ব–স্ব ই–মেইলে পেয়েছেন, যা বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুমাইয়া খানম, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদুর রহমান, আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অমিতাভ সাহা তাঁকে অবহিত করেছেন।

জিডিতে সুলতান-উল-ইসলাম উল্লেখ করেছেন, ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টায় [email protected] ই–মেইল থেকে আমার নামে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি চেতনায়, ভোট দিন’ শিরোনামে একটি কুরুচিপূর্ণ, অসত্য, বানোয়াট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রগতিশীল শিক্ষকসমাজের সদস্যদের কাছে প্রচার করা হয়। একই আইডি থেকে পরের দিন ২১ ফেব্রুয়ারি বেলা ১টায় ‘একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনায় রাজাকারের দোসরকে নির্বাচনে বর্জন করুন’ শিরোনামে আরও একটি ই–মেইল পাঠানো হয়। এই দুটি ই–মেইলের প্রেরক হিসেবে জান্নাতুল ফেরদৌসের নামটি দেখা যায়। কিন্তু জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগটি অস্বীকার করে ইতিমধ্যে থানায় মামলা করেছেন। তবে এই ই–মেইলের ‘অথর (লেখক)’ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম বকসির নামটি পাওয়া গেছে। আর এই ই–মেইলগুলোর কারণেই তাঁর প্যানেল হেয়প্রতিপন্ন হয়েছে। তাই তিনি সামান্য ভোটে আহ্বায়ক পদে পরাজিত হয়েছেন। এতে একদিকে তিনি মানহানির শিকার হয়েছেন এবং নির্বাচনে হেরে গেছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস প্রথম আলোকে বলেন, ওই ই-মেইল তাঁর নয়। মেইলটি কেউ খুলে তাঁর নাম ব্যবহার করে সুলতান-উল-ইসলামের নামে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এই মেইলে ‘অথর’ হিসেবে নাম রয়েছে রেজাউল করিম বকসির নাম। তিনি এ কারণে কাউকে নির্দিষ্ট করে আসামি করেননি। পুলিশ তদন্ত করলে বিষয়টি বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে একাধিকবার ফোন দিয়েও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম বকসির ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসের মামলাটি তদন্ত করছেন মতিহার উপপরিদর্শক (এস আই) মো. ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, ২৩ ফেব্রুয়ারির মামলার ঘটনাটি তদন্ত চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন