default-image

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ত্রাণের দাবিতে আজ রোববার দুপুরে বিক্ষোভ করেছেন কর্মহীন দিনমজুর মানুষেরা। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেখানে উপস্থিত হয়ে পর্যায়ক্রমে সবাইকে ত্রাণ দেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন।

স্থানীয় লোকজন জানান, দুপুরে কয়েক শ মানুষ ত্রাণের দাবিতে জয়মনিরহাট বাসস্ট্যান্ডে মিলিত হন। মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় তাঁরা কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী সড়কের জয়মনিরহাট সড়কে গাছ ফেলে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

বিক্ষোভকারী কয়েকজন বলেন, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে গরিব এলাকা জয়মনিরহাট ইউনিয়ন। এখানে পরিত্যক্ত রেললাইনে কয়েক শ ভূমিহীন পরিবারের মানুষ বসবাস করে। এ ছাড়া মোটর ও ট্রাকশ্রমিক, কুলি, কৃষিশ্রমিকসহ দিনমজুর শ্রেণির মানুষের সংখ্যা বেশি। করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের কাজ নেই। বাধ্য হয়ে মিছিল করেছেন।

হাফিজুর রহমান নামের একজন বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা দিনমজুরি করে সংসার চালাই। কয়েক দিন ধরে করোনার প্রভাবে কোথাও কাজ করতে যেতে পারছি না। ঘরে খাবার নেই। যেটুকু সম্বল ছিল, তা–ও শেষ হয়ে গেছে। এখন কী খাব।’

এ প্রসঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে গরিব মানুষের সংখ্যা বেশি। আমি ওয়ার্ডভিত্তিক জরিপ করে ছয় হাজার দরিদ্র পরিবারের তালিকা জমা দিয়েছি। সেখানে দুই কিস্তিতে ত্রাণ পেয়েছি মাত্র ৪০০ পরিবারের জন্য। ফলে লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আমরা মানুষকে বুঝিয়েছি পর্যায়ক্রমে পাবে। তাঁরা শোনেননি। আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। পরে ইউএনও ফিরুজুল ইসলামকে খবর দিলে তিনিসহ সহকারী পুলিশ সুপার শওকত আলী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম, ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান সিরাজ ঘটনাস্থলে এসে মানুষকে শান্ত করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ত্রাণসহায়তার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা ফিরে যান।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরুজুল ইসলাম ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, আসলে কিছু মানুষ তাঁদের উসকে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0