ভেঙে গেছে সেতুর একাংশ, সাঁকো বানিয়ে চলাচল

উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নে তালুকদারহাট খালের ওপর ওই সেতুর অবস্থান। পারপারে ভোগান্তি।

সেতুর সঙ্গে সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছে লোকজন। সম্প্রতি কাউখালীর তালুকদারহাট খালে
ছবি: প্রথম আলো

পিরোজপুরের কাউখালীতে তালুকদারহাট খালের ওপর লোহার সেতুটির একাংশ চার বছর আগে ভেঙে গেছে। সেখানে সুপারিগাছ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সাঁকো পার হতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা।

উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নে তালুকদারহাট খালের ওপর ওই সেতুর অবস্থান। সেতুটির পশ্চিম প্রান্তে তালুকদারহাট ও পূর্ব প্রান্তে হাওলাদারহাট বাজার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১২ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খালের ওপর ৫৫ মিটার দৈর্ঘ্যের লোহার সেতুটি নির্মাণ করে।

খালের দুই পারের কয়েকটি গ্রামের মানুষ সেতু পার হয়ে দুটি বাজারে যাতায়াত করেন। সেতুর পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে জোলাগাতী ফাজিল মাদ্রাসা, তালুকদারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোলাগাতী আদর্শ মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়, দক্ষিণ শিয়ারকাঠী সরকারি প্রাথমিক ও শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন পরিষদ। পূর্ব প্রান্তে রয়েছে কাউখালী ও ভান্ডারিয়া উপজেলায় যাতায়াতের সড়ক।

স্থানীয় দক্ষিণ শিয়ালকাঠী, শিয়ালকাঠী ও জোলাগাতী গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ সেতুটি ব্যবহার করে হাটবাজার, স্কুল-কলেজ, ইউনিয়ন পরিষদ, হাসপাতাল ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। চার বছর আগে সেতুর পশ্চিম প্রান্তের একাংশ ভেঙে যায়। এরপর স্থানীয় উদ্যোগে সুপারিগাছ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে সেতুটি মানুষের চলাচলের উপযোগী করা হয়।

সম্প্রতি গিয়ে দেখা যায়, সেতুর ভেঙে যাওয়া অংশে সাঁকো তৈরি করে দেওয়া আছে। ওই সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠতে হয়। পথচারীরা হেঁটে পার হচ্ছেন। সাঁকো দিয়ে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ভ্যান চলাচল করতে পারে না।

তালুকদারহাট বাজার কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান সম্রাট বলেন, ‘সেতুটির একাংশ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমি কয়েকবার সুপারিগাছ দিয়ে সাঁকো তৈরি করেছি। এতে সেতুটি দিয়ে মানুষের চলাচল করতে পারছেন। দুটি বাজার ও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সেতু দিয়ে যাওয়া আসা করতে হয়। জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নির্মাণের জন্য আমরা বারবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়েছি। কিন্তু কোনো ফল পাচ্ছি না।’

শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিকদার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নতুন করে সেতু নির্মাণের তালিকায় কয়েকবার তালুকদারহাট সেতুটি নাম দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে। কিন্তু কেন যে নতুন সেতু নির্মাণ হচ্ছে না, বুঝতে পারছি না।’

উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন বলেন, তালুকদারহাট সেতুটির স্থানে নতুন করে গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য চেষ্টা চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লোহার সেতু পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের তালিকায় তালুকদারহাট সেতুটির নাম পাঠানো হয়েছে।