বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ সকাল ১০টার দিকে খলাপাড়া এলাকায় উভয় পক্ষের কয়েকজন কথা-কাটাকাটিতে জড়ান। মুহূর্তেই এই খবর দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ৩০ মিনিটের মধ্যে উভয় পক্ষের সহস্রাধিক মানুষ লাঠিসোঁটা, দা, বল্লম নিয়ে খলাপাড়ার মেঘনা নদীর পাড়ে জড়ো হন। সংঘর্ষ চলাকালে দুপুর ১২টার দিকে প্রথমে বুকে বল্লমবিদ্ধ হন আক্কাসপক্ষের মকবুল। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। মকবুল খলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

বেলা একটার দিকে বল্লমবিদ্ধ হন একই পক্ষের পাভেল শেখ। পাভেলও ঘটনাস্থলে মারা যান। পাভেলের বাড়ি লুন্দিয়া গ্রামে।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আক্কাসপক্ষের ১২ জনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আক্তারপক্ষের লোকজন ভৈরবের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালে কথা হয় মকবুল হোসেনের স্ত্রী শেফালি বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঝগড়ার কথা শুনে আমার স্বামী ঘর থেকে বের হয়ে যান। কার সঙ্গে কার ঝগড়া হচ্ছে এবং কেন হচ্ছে, এসবের কিছু না জেনেই দৌড়াতে থাকেন।’

একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেওয়া আক্কাস আলীর ভাষ্য, ‘আক্তার এলাকায় একক প্রভাব বিস্তার করে চলতে চান। তাঁর পক্ষের লোকজনের অত্যাচারে এলাকায় এখন আর স্বাভাবিক অবস্থা নেই। এই অবস্থায় আমরা চেয়েছিলাম এলাকায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে। আজ কোনো কারণ ছাড়া আক্তারপক্ষ আমার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমার পক্ষের দুজন মারা গেছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে আরেকটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে থাকা আক্তার মিয়ার ভাষ্য, ‘এলাকা যেন আক্কাস ছাড়া আর কারও নাম না থাকে, সেই ভাবনা নিয়ে রাজনীতি করে আসছেন আক্কাস। সে কারণে বিভিন্ন এলাকার মানুষ নিয়ে তিনি একটি বলয় সৃষ্টি করেছেন। বলয়ের লোকজন ঝগড়া করার অছিলা খুঁজছিলেন। আজ সকালে তেমন কোনো কারণ ছাড়াই আক্কাসপক্ষ আমার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। তখন আমার লোকজন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে।’ আক্তারের দাবি, মারা যাওয়া দুই ব্যক্তি তাঁদের হামলায় নয়, নিজ পক্ষের ছোড়া বল্লমের আঘাতে মারা যান।

সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে এলাকায় পুলিশ রাখা আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন