default-image

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় করোনায় সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ছয়জন সংক্রমিত হওয়ার মধ্য দিয়ে এখন সংখ্যাটি এক হাজার তিনজনে ঠেকেছে। উপজেলাটিতে সংক্রমণের হার ১৭ শতাংশ। মারা গেছেন ১৮ জন। আজ সোমবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র এই তথ্য প্রকাশ করে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, করোনার জন্য কিশোরগঞ্জ শুরু থেকেই হটস্পট জেলা। জেলার ১৩ উপজেলার মধ্যে শুরু থেকেই ভৈরব স্পর্শকাতর স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বর্তমানে উপজেলাটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে সংক্রমণ বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুও। চার দিনের ব্যবধানে মারা গেছেন দুজন।

একই সূত্র জানায়, পুরো জেলায় এখন পর্যন্ত ৪২ হাজার ৯৪৪ জন নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। এর মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া গেছে ৪ হাজার ১৪১ জনের। সংক্রমণ হার ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু ভৈরবে করোনা শনাক্তের হার ১৭ শতাংশ। এই হার পাওয়া গেছে ৫ হাজার ৮৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা থেকে। জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা ৭১। এর মধ্যে ভৈরবের ১৮ জন। জেলায় বর্তমানে আক্রান্ত ৩৭৫ জনের মধ্যে এই উপজেলার ৮৩ জন।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বেলা ১১টায় ভৈরবের ৪২ বছর বয়সী এক নারী শ্বাসকষ্ট নিয়ে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপরই করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা নেওয়া হয়। পাঁচ ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। স্বজনেরা ওই রাতেই স্বাভাবিক নিয়মে গ্রামের বাড়িতে তার লাশ দাফন করেন। গতকাল রোববার স্বাস্থ্য বিভাগ জানতে পারে ওই নারী করোনা পজিটিভ ছিলেন।

নারীর এক স্বজন বলেন, নমুনা দিলেও তাঁদের ধারণা ছিল পজিটিভ হবে না। রিপোর্টের অপেক্ষা করতে গিয়ে মরদেহ নিয়ে তো আর বসে থাকা যায় না। মৃত্যুর তথ্যটি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে জানিয়েছিলেন কি না? এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘প্রথমত ওই নারীর নমুনা আমরা সংগ্রহ করেনি। তথ্যটি জানার পর খোঁজ নিতে হয়েছে। যেহেতু নমুনা দেওয়ার পর মারা গেছে, সেই কারণে অবশ্যই তথ্যটি স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানো উচিত ছিল।’

এদিকে ভৈরবে এখন পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৭ হাজার ৭৪৮ জন। প্রথম ডোজ পেতে নিবন্ধন করেছিলেন ১১ হাজার ৯০৬ জন। এই উপজেলার প্রথম ডোজের জন্য বরাদ্দ ৯ হাজার ৫০০টি। ফলে এখনো ১ হাজার ৭৫২ জনের প্রথম ডোজ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ শুরু হওয়ার পর আজ সকাল ১০টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত সময়ের হিসাবে অনুযায়ী টিকা গ্রহণ করেছেন ১ হাজার ৫৫৬ জন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন