রিমার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও উদ্ধারে নেতৃত্ব দেন ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিক। এমডি হানিফুর রহমানকে আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আত্মহত্যার আগে এমডির সঙ্গে রিমার কথা হয়েছে। আমাদের মনে হয়েছে, দুর্ঘটনার স্পষ্ট ধারণা পেতে এমডির সঙ্গে কথা বলা দরকার। এ কারণেই তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।’

পুলিশি হেফাজতে এমডি হানিফুর রহমান বলেন, ‘রিমা পুলিশে চাকরি করতে চেয়েছিলেন। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য পদত্যাগপত্রও জমা দেন। কিন্তু আমি সেটি গ্রহণ করিনি। আমি এই পর্যন্তই জানি।’

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে গত শুক্রবার কর্মস্থলে ফেরেন তিনি। ফিরেই এমডির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু এমডি সেটি গ্রহণ করেননি। শুক্রবার রাতে রিমা হাসপাতালে কর্তব্য পালন করেন। রাত তিনটার দিকে নার্স ইনচার্জ লিজা বেগমের মাধ্যমে মুঠোফোনে এমডির সঙ্গে কথা বলেন রিমা। তখন জানান, সকালে তিনি বাড়ি ফিরে যেতে চান।

এরপর রাত চারটার দিকে ২০৩ নম্বর কেবিনে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় সহকর্মীরা তাঁকে নামিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এর আগেই রিমার মৃত্যু হয়।

গত শনিবার সকালে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে। এতে আত্মহত্যার জন্য কেউ দায়ী নন বলে চিরকুটে লেখা ছিল। তবে ঘটনার সময় কেবিনের দরজা খোলা ছিল।

রিমার মা বিত্রিতা পাল মেয়েকে হারিয়ে বাক্রুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। মেয়েকে হারিয়েছি। কিন্তু হাসপাতালের লোকজন আমাকে কাঁদতেও দেয়নি। তারা আমার কান্না থামিয়ে দিয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন