default-image

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভা নির্বাচনে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই কাউন্সিলর প্রার্থীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ফজলু মিয়া ও আশরাফুল আলমের সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ প্রথমে আশরাফুলকে, পরে ফজলুকে আটক করে। আশরাফুল ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর। ফজলু মিয়া বর্তমান কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী।

পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশরাফুল ও ফজলুর বাড়ি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর ব্যাপারী বাড়ি। আশরাফুল হলেন ফজলুর চাচাতো ভাতিজা। আগের নির্বাচনে আশরাফুলকে হারিয়ে ফজলু ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হন। নির্বাচন নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলমান। এই বিরোধকে ঘিরে এলাকা দুভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরে ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ পেতে দুজনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে আশরাফুল সফল হন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ বাড়ে। এবারের নির্বাচনেও তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বী।

বিজ্ঞাপন

তফসিল ঘোষণার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে ছোট–বড় পাঁচটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ শনিবার দুপুরে ফজলুর নির্বাচনী মিছিল বের হয়। এ সময় আশরাফুলের সমর্থকেরা ফজলুর সমর্থক হাসান পিন্টু নামের ছাত্রলীগের এক কর্মীকে মারধর করেন। এ ঘটনায় রাতেই পিন্টু থানায় অভিযোগ করেন। এজাহারে আশরাফুলকে প্রধান আসামি করা হয়। আগের দিনের ঘটনার সূত্র ধরে দুপুর ১২টার দিকে প্রথমে ফজলুর পক্ষ আশরাফুলের পক্ষের ওপর হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। হামলায় আশরাফুলের পক্ষের পাঁচটি এবং ফজলুর পক্ষের চারটি ঘরে ও কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর হয়। আহত ব্যক্তিরা স্থানীয় কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আশরাফুল বলেন, ‘আমার কর্মী–সমর্থকেরা ফজলুর দ্বারা পদে পদে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। মামলা–হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে হামলা চালাচ্ছেন।’
তবে ফজলুর অভিযোগ, কোনোভাবেই তিনি যেন পুনরায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে না পারেন, সেই চেষ্টায় আশরাফুল এখন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এই কারণে মিছিল থেকে ধরে নিয়ে তাঁর এক সমর্থককে মারধর করেন আশরাফুলের লোকজন।

এদিকে কয়েকদিন পরপর দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় পুলিশ বেশ বিরক্ত। ফজলু ও আশরাফুলকে আটক করার কথা স্বীকার করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিন বলেন, ভৈরবে প্রার্থীদের মধ্যে সহনীশলতা রয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ওয়ার্ডে একবারের জন্য পুলিশ পাঠাতে হয়নি। অথচ ফজলু আর আশরাফুলের জন্য পুলিশ প্রস্তুত রাখতে হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন