default-image

ঘড়ির কাঁটায় তখন বেলা ১১টা ২৫। করোনার টিকা নেওয়ার জন্য চেয়ারে বসলেন মুক্তিযোদ্ধা মির্জা মো. সুলায়মান। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার প্যানেল চেয়ারম্যান। স্বাস্থ্যকর্মী ঝুনু থেকলা রোজারিও কয়েক সেকেন্ডেই টিকা পুশ করার কাজটি শেষ করলেন। সবার মুখে হাসি। হাসলেন মুক্তিযোদ্ধা মির্জা সুলায়মানও।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার প্রথম টিকা গ্রহণকারী হিসেবে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মির্জা মো. সুলায়মান বলেন,‘ কই, কোনো খারাপ লাগছে না তো। পরে তিনি পর্যায়ক্রমে সবাইকে টিকা গ্রহণের অনুরোধ জানান।’ মির্জা সুলায়মানের পরেই টিকা গ্রহণ করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ফরহাদ আহমেদ। এরপর নিলেন মুক্তিযোদ্ধা তালাত হোসেন ও ফখরুল আলম। ফখরুল আলম পৌরসভার মেয়র।

ভৈরবে টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে উপজেলা ট্রমা সেন্টারে। ভৈরবে প্রথম দিন ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৩০ জন। এর মধ্যে চিকিৎসক রয়েছেন ১০ জন। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে টিকা গ্রহণ করেন ভৈরব প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুজ্জামান। তিনি বলেন, করোনা সময়ের প্রতিটা দিন কেটেছে চরম অনিশ্চয়তায়। আজ টিকা নিলাম। স্বস্তি লাগছে। দুঃচিন্তা দূর হলো।

বিজ্ঞাপন

করোনার প্রথম দিকের আক্রান্ত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর। করোনা জয় করার পর প্রথম দিনই টিকা নিলেন তিনি। টিকা নেওয়ার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল, চরম অনিশ্চিয়তার দিন বোধ হয় শেষ হয়ে এল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, ৩০ জনের কারও শরীরে টিকা–পরবর্তী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল না। তিনি নিজেও প্রথম দিনের টিকা গ্রহণকারীর একজন।

নিবন্ধন বুথ কক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ পর্যন্ত তাঁদের সার্ভার থেকে টিকা পেতে ৫২৯ জন নিবন্ধন করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন