default-image

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নবী হোসেন (৩৫) হত্যা মামলায় এক নারীসহ দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই রায় দেন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন সুমনা বেগম (৩০) ও নজরুল ইসলাম (৩৮)। সুমনা হলেন নজরুলের সাবেক স্ত্রী। নবী হোসেনের সঙ্গে সুমনার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রায় ঘোষণার সময় নজরুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে সুমনা পলাতক। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আশরাফুল রাসেল ও শরীফ মিয়া নামের দুজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়,  ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর নবী হোসেন খুন হন। তিনি পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। নবী স্থানীয়ভাবে কবিরাজ হিসেবে পরিচিত। সুমনা ও নজরুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বিজেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে তাঁদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। এরপর নবীর সঙ্গে সুমনার প্রেমের সম্পর্ক হয়। ঘটনার কয়েক মাস আগ থেকে সুমনা পৌর শহরের চন্ডীবের দক্ষিণপাড়ায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। ওই বাসায় নবীর নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এই তথ্য পাওয়ার পর নবীর প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন নজরুল। একপর্যায়ে নজরুল ও সুমনার সম্পর্ক জোড়া লাগে। নবীর সঙ্গে সুমনার সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। নজরুলও সুমনার বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। তখন সাবেক এই দম্পতি মিলে নবীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার রাতে নবীকে বাসাবাড়িতে ফোন করে ডেকে আনেন সুমনা। গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে সুমনা ও নজরুল নবীকে হত্যা করেন। পরে লাশ ছয় টুকরা করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।

বিজ্ঞাপন

২৩ ডিসেম্বর পুলিশ চন্ডীবের এলাকার একটি ডোবা থেকে নবীর মৃতদেহের একাংশ উদ্ধার করে। ২৫ ডিসেম্বর মালগুদাম এলাকা থেকে বাকি অংশ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় নবীর স্ত্রী বিলকিছ বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ নজরুলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে সুমনাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পরে মামলাটি তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম চারজনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন